চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে আজ রাতে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, মেট্রোরেলসহ চলমান অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা, জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী আগামীকাল ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করবেন। সফরকালে তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা, শিল্প ও জ্বালানি স্থাপনা পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাবেন। প্রধানমন্ত্রী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে অবস্থান করবেন। সফরের প্রথম দিন সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের সভাপতি তারো আসোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এ সময় লিগের জ্যেষ্ঠ সদস্য এবং জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী তাতসুনোরি ইবায়াশিও উপস্থিত থাকবেন। একই দিন জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সন্ধ্যায় তিনি নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেবেন। সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের আগে তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। শীর্ষ বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলন এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় কমানো এবং জাপান থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার হ্রাসের বিষয়গুলো সফরের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। মেট্রোরেল ছাড়াও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার বিষয়েও আলোচনা হবে। একই দিন প্রধানমন্ত্রী জাপানের চিবা প্রিফেকচারের ফুতসু শহরে জেরা (জেইআরএ)-এর স্থলভিত্তিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। পরে ইচিকাওয়া শহরে নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। সফরের তৃতীয় দিন ২৮ অক্টোবর জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়ার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। পরে তিনি জাপানের তৈরি পোশাক প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর সদর দপ্তরে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। একই দিন জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠক ও তাঁর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করবেন তিনি। জাপানের আরও ১৪টি বিশিষ্ট কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে দুটি দলীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিকেলে টোকিওর জেট্রো ভবনে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ফোরামে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। একই দিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ দূতাবাসে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরকারীদের সঙ্গে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি কমিউনিটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। সফরের শেষ দিন ২৯ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনে টোকিও থেকে নাগোয়া যাবেন। সেখানে তিনি টয়োটা মোটর করপোরেশনের মটোমাচি কারখানা পরিদর্শন করবেন। পরে টয়োটা সুসো করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তোশিমিতসু ইমাইয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। নাগোয়ায় টয়োটা কমেমোরেটিভ মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজিও পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বুলেট ট্রেনে টোকিও ফিরে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে তাঁর ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ সফরের ঘোষণা দেয়। পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, সফরে কৃষি, মৎস্যসম্পদ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান পরিবহন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হবে। এসব খাতে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে তিন থেকে চারটি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে পৃথকভাবে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে। পররাষ্ট্রসচিব বলেন, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার অনুযায়ী কারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হবে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার মতো নতুন ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হওয়ায় দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বিনিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং ব্যবসায়িক আস্থা জোরদারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাবে। স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। দেশটি ঢাকার মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও যোগাযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা দিয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে বিভিন্ন সময়ে উচ্চপর্যায়ের সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ১৯৯৪ ও ২০০৫ সালে দেশটি সফর করেন। এসব সফরের ধারাবাহিকতায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সফরে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-স্থিতিশীলতা এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খানসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা জাপান যাবেন। বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২৬-৩১ মেয়াদে জাপানের সঙ্গে ১২টি অগ্রাধিকার খাতে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারের একটি বিনিয়োগ ও সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত প্যাকেজের কিছু উদ্যোগ বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় (বিআইজি-বি) উদ্যোগের আওতাভুক্ত। এতে পরিবহন ও নগর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার, মাতারবাড়ীসহ সমন্বিত শিল্প, বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তুলতে ৩.১৪ বিলিয়ন ডলার, উৎপাদন ও ইলেকট্রনিকস খাতে ১.৫৭ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও সবুজ রূপান্তরে ১.২৬ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়নে ৯৪০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া কৃষি, ওষুধশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, পর্যটন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পসহ অন্যান্য খাতে ৩.৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাসস

চাঁদাবাজির কারণে জনগণের ব্যয় বাড়ছে: জামায়াত আমির
চাঁদাবাজির কারণে জনগণের ব্যয় বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের পর সফল গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে স্বৈরাচারের পতন হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। বহু আলাপ-আলোচনা হয়। বেশিরভাগ বিষয়ে একমত পোষণ করে একটা সনদ বাস্তবায়ন করা হয়। এর ভিত্তিতে সবাই এই সনদে স্বাক্ষর করেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষা হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় পেয়েছে। জামায়াত আমির বলেন, আমরা আগে গণভোট চেয়েছিলাম, পরে ভোট চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের শঙ্কা সত্য হয়েছে। আমরা পরিবর্তনের রাজনীতি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার চাই। কিন্তু দেশে বৈষম্য আরও বেড়েছে। বিএনপিকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ তাড়াতে পারেননি। ৪১ সালের পরিকল্পনা শেখ হাসিনা করেছিলেন। আমরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে আনদোলন করে এগিয়ে গেছি। অতীত ভুলে গেলেন? সংবিধান মানলে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নিবাচন হত না। সংবিধানের নেশা থেকে বেরিয়ে আসেন। এই সংবিধান ফ্যাসিবাদকে স্থায়ী করেছে। জাতির সঙ্গে দেয়া কথা আপনারা রাখেননি। জনগণের সঙ্গে আপনারা ধাপ্পাবাজি করেছেন। ‘তারা নতুন নতুন প্ল্যান করছে। তারা বলছে, আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি। আপনারা নির্বাচনের সময়ে ইনিয়েবিনিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছেন। আওয়ামী লীগ বলেছে ৯০ শতাংশ ভোট দিয়ে তারাই বিএনপিকে জিতিয়ে দিয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে। আমরা নাকি এই টাকায় দেশে অস্থিরতা করি’, যোগ করেন জামায়াত আমির। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণকে কার্ডের কথা বলেছেন। কতজনকে কার্ড দেবেন? তার আগেই জনগণের ওপর বোঝা চাপিয়েছেন। চাঁদাবাজি করছেন, চাঁদাবাজদের কারণে ব্যয় বাড়ছে। ‘রাড্ডায় হামলা চালিয়েছেন। এর জন্য শুধু এমপিকে পদত্যাগ করিয়েছেন। কিন্তু তাকে আইনের আওতায় আনেনি। চাঁদা চাওয়ার পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গেছে যে, এক সময় তারেক রহমানের কাছে চাইবে’, যোগ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এত তাড়াতাড়ি আমাদের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাহলে আপনারা কেন এত তাড়াতাড়ি চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে জড়ালেন। বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক বসালেন। সালাহউদ্দিন আহমেদ পারদর্শী লোক। সব মন্ত্রণালয় দেখেন। শুধু নিজের মন্ত্রণালয় দেখেন না। মাদক ঢুকে তার সংসদীয় এলাকা দিয়ে। তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণের অধিকার আদায়ের দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি। এখানে আমাদের কিংবা ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো দাবি নেই। জনগণের দাবিতেই আমাদের আন্দোলন। ‘আগামী লংমার্চ ঢাকা থেকে কুষ্টিয়ায় শেষ হবে। আগামী ৩১ অক্টোবর লংমার্চে বাধা দিলে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। কোনো ষড়যন্ত্র আমরা মানবো না’, যোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

এনসিপির নারীশক্তির কমিটি বাতিল, নতুন নেতৃত্বে মিতু-নুসরাত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে নতুন আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। নতুন কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে ডা. মাহমুদা আলম মিতু এমপিকে। সদস্যসচিব হয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম এমপি এবং মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মনজিলা ঝুমা। নতুন কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে জাতীয় নারীশক্তির আগের কমিটি বাতিল করে নতুন আংশিক আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যস্থ নিউহ্যাম যুবদলের সহ-সভাপতি হলেন কবির উদ্দিন বলাই
যুক্তরাজ্যস্থ নিউহ্যাম যুবদলের নবগঠিত ৬২ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার বানিগাজী গ্রামের কৃতি সন্তান কবির উদ্দিন বলাই। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী এই নেতা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। গত ১৩ অক্টোবর (মঙ্গলবার) যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি আফজাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাবর চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে নিউহ্যাম শাখার পূর্ণাঙ্গ এ কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়। কমিটিতে আহমদ হোসেনকে সভাপতি এবং শাহ বাবলা আহমদকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। প্রবাসজীবনে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেও কবির উদ্দিন বলাই যুবদলের রাজনীতিতে নিয়মিত সক্রিয় রয়েছেন। তার এ দায়িত্ব প্রাপ্তিতে গোলাপগঞ্জের স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মাঝে আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তারা তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাজনৈতিক সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন দায়িত্বে থেকে তিনি সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবেন এবং প্রবাসে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কমিটি অনুমোদনের পর যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি আফজাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাবর চৌধুরী নবনির্বাচিত সকল দায়িত্বপ্রাপ্তকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা সংগঠনের কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান। কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি হোসেন আলী নোমান, সহ-সভাপতি ইমরান আহমদ, লায়েক মিয়া, বদরুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, জয়নাল আহমদ, তরিক আহমদ, আব্দুল কালাম, জুবেল আহমদ, তাজ উদ্দিন, জহুরু মিয়া ও আতিকুর রহমান তুরন। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের অপু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিপার আহমদ, শিপন আহমদ, সোহেল আহমদ, সারোয়ার হুসেন, ছাদিকুর রহমান ও রাসেল আহমদ। সহ-সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, আলী আকবর ও জাহেদ আহমদ। সাংগঠনিক সম্পাদক আল ইমরান আহমদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েম আহমদ, সাহানুর রহমান, রুকন উদ্দিন ও মিরসাদুল হক। প্রচার সম্পাদক আবু সুফিয়ান হাসান, সহ-প্রচার সম্পাদক আক্তার হোসেন, সুমন আহমদ ও শামসুজ্জামান। দপ্তর সম্পাদক রবিন আহমদ রামিন, সহ-দপ্তর সম্পাদক মো: বাবর, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আবু ফাহিম মুন্না, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের আহমদ সাজু, সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সুমন ইসলাম। অর্থ বিষয়ক সম্পাদক রিজন মিয়া, সহ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মনির হোসেন, সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলী হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক ওহালী আকবর, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মুস্তাকিম, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক উসমান আহমদ, সহ-সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ। ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সারুল মিয়া, সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জাবরুল হোসেন, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ইয়ামিন হোসেন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আকদার হোসেন, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক মো: আজম। এছাড়া কমিটিতে সিনিয়র সদস্য ওবাইদুর রহমান এবং সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো: খলিল, রনি আহমেদ, ফারজানা আক্তার, জামাল মজুমদার, সাহানুর রহমান ও আব্দুল লতিফ। যুক্তরাজ্য যুবদলের সভাপতি আফজাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক বাবর চৌধুরী নবগঠিত নিউহ্যাম শাখার সকল দায়িত্বপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনের সার্বিক গতিশীলতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাব এসেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে সংসদের উচ্চকক্ষ থেকে প্রধান ও উপদেষ্টা নিয়োগের ধারণা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও এসেছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনের অধ্যাপক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠনপ্রক্রিয়া, কাঠামো ও কর্মপরিধি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। উচ্চকক্ষ গঠিত হলে সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পরও সেটি বহাল রাখার ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে মত দিয়েছেন কেউ কেউ। সে ক্ষেত্রে উচ্চকক্ষ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ও অন্য উপদেষ্টাদের নিয়োগের বিধান রাখা সম্ভব কি না, সেটিও আলোচনায় এসেছে। উচ্চকক্ষে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি করে তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব দেওয়ার ধারণাও এসেছে বলে জানান তিনি। বিকল্প হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সম্মতিতে স্পিকার নির্বাচিত হলে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান করার প্রস্তাবও দিয়েছেন কেউ কেউ। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আলোচনায় আসা ধারণাগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো লিখিত প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার গঠন ও কর্মপরিধি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লিখিত মতামত দিতে বলা হয়েছে। নতুন প্রস্তাব এলে সেগুলোও কমিটির প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে এবং রাষ্ট্রপতির সর্বশেষ বিকল্পের বিধান বাদ দিয়ে কীভাবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি ব্যবস্থা তৈরি করা যায়, তা নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা হয়েছে। কমিটি সব মতামত পর্যালোচনা করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমাধান খুঁজতে চায়। আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো তত্ত্ব, নির্বাহী বিভাগ ও আইন প্রণয়নসংক্রান্ত কার্যক্রমের ওপর বিচার বিভাগের পর্যালোচনার ক্ষমতা এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের এখতিয়ার নিয়ে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, নিম্নকক্ষের মেয়াদ চার বছর এবং উচ্চকক্ষের মেয়াদ ছয় বছর করার প্রস্তাব এসেছে। এছাড়া ৬৪ জেলা ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে উচ্চকক্ষ গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দেওয়া এবং মৌলিক অধিকারের পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সরকারি হিসাব ও সরকারি প্রতিষ্ঠানবিষয়ক কমিটির মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির পাশাপাশি পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট, সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বাড়াতে সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ বাছাই কমিটি গঠন এবং অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব বিচার বিভাগের হাতে দেওয়ার প্রস্তাবও এসেছে। সংসদের উচ্চকক্ষ আদৌ প্রয়োজন কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া কেউ কেউ। উচ্চকক্ষের পরিবর্তে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ধারণাও আলোচনায় এসেছে। উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে সংবিধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধিত হয় কি না, তা নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তির মত ছিল, আদালতের রায় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে সংসদের মাধ্যমে সংশোধনী আনতে হবে। এ ছাড়া সংবিধিবদ্ধ কিছু প্রতিষ্ঠানকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে ‘স্ট্যাটুটরি কনস্টিটিউশনাল বোর্ড’ নামে একটি কাঠামোর ধারণাও তুলে ধরেছেন কেউ কেউ। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও কিছু সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ‘স্ট্যাটুটরি কনস্টিটিউশনাল বোর্ড’ নামে একটি নতুন ধারণা তুলে ধরেছেন কেউ কেউ। সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর গঠন ও কর্মপরিধি এমনভাবে নির্ধারণ করা যায় কি না, যাতে সেগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০১১ সালের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার মতো এবারও প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওই সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বাধীন কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রাখার বিষয়ে একমত হলেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তা বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তখন একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা ও অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা ছিল, যা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক, রাগীব রউফ চৌধুরী, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ একরামুল হক, অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিন খান, ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন।

