গাজীপুরের কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় দফায় ৭৩৯ জন শ্রমিক ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং অতিরিক্ত জনবলের কারণে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য চারটি ব্যাংকের অসহযোগিতাকে দায়ী করেছেন কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান।
সম্প্রতি ছাঁটাইয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান জানান, সাউথইস্ট ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সঙ্গে তাদের হিসাবসংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যান আরও জানান, ব্যাংকগুলো তার সঙ্গে না বসে হিসাবের সঠিকতা যাচাই করেছে। তিনি অডিটর, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম ও অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদদের নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে হিসাবের গরমিল নিরসনের দাবি জানান। তার দাবি, চারটি ব্যাংক কেয়া গ্রুপের প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ঋণের কথা বলছে। হিসাবের গরমিল দূর করা গেলে ঋণের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হবে।
তিনি বলেন, ব্যাংকিং জটিলতার কারণে ঋণপত্র (এলসি) বন্ধ রয়েছে। ফলে কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্যাংকিং জটিলতা নিরসন করা গেলে কেয়া গ্রুপ আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসতে পারবে এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যানের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় তাকে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত করার কারণে এসব জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর বক্তব্য জানা যায়নি।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং জটিলতা, গ্যাস বিল পরিশোধ করতে না পারায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা এবং প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবলের কারণে উৎপাদন ও প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন সেকশন, বিভাগ ও ডিভিশনের কিছু পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।
নোটিশে শ্রম আইন অনুযায়ী ২০ অক্টোবর থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক ও কর্মচারীদের ছাঁটাই করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ছাঁটাই হওয়া ব্যক্তিদের আইনানুগ পাওনা পরিশোধ করা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে কারখানার প্রধান ফটকে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক-কর্মচারীদের নামের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়। তালিকা দেখতে কারখানার সামনে ভিড় করেন শ্রমিকেরা। এ সময় তাদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা যায়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতে কারখানায় নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হলে শ্রম আইন অনুযায়ী ছাঁটাই হওয়া দক্ষ শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে যাদের চাকরি বহাল রয়েছে, তারা লে-অফের আওতায় থাকবেন এবং আইন অনুযায়ী সুবিধা পাবেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, কেয়া গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠানে ৭৩৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারখানার প্রধান ফটকে শিল্প পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিষ্ঠানে দ্বিতীয় দফায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী ছাঁটাইয়ের ঘটনায় তাদের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ব্যাংকিং জটিলতা নিরসন এবং কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
