ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে। ধর্মপ্রচারেরও স্বাধীনতা আছে। আবার ইচ্ছামতো ধর্ম পরিবর্তনেরও স্বাধীনতা আছে। কিন্তু সেই স্বাধীনতার অর্থ এই নয়, যে কেউ স্রেফ বিয়ে করার জন্য ধর্ম বদলে নেবেন। এক্ষেত্রে জোর জবরদস্তি বা চাপ দেওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকে যায়। ধর্মান্তকরণ নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ বম্বে হাই কোর্টের। আদালত সাফ বলছে, স্রেফ বিয়ের জন্য ধর্ম বদলের অনুমতি কোনওভাবেই দেওয়া সম্ভব নয়।
আসলে সদ্য মহারাষ্ট্র সরকার একটি ধর্মান্তকরণ বিরোধী আইন এনেছে। মহারাষ্ট্র ফ্রিডম অফ রিলিজিয়ন অ্যাক্ট নামের ওই আইনটিতে বলা হয়েছে, কোনওরকম চাপ দিয়ে, প্রতারণার মাধ্যমে, জবরদস্তি করে, প্রলোভন দেখিয়ে বা বিয়ের নামে চাপ দিয়ে যদি কারও ধর্মবদল করা হয় তাহলে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। ওই আইনে বলা আছে, কেউ চাইলে স্বেচ্ছায় ধর্ম বদল করতে পারে কিন্তু সেটার জন্য অন্তত ৬০ দিন আগে নোটিস দিতে হবে। এবং প্রমাণ করতে হবে কারও দ্বারা ভীত বা প্রভাবিত হয়ে ওই ব্যক্তি ধর্মবদল করছেন না। এই আইন আনা হয়েছে মূলত অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তকরণ বা লাভ জেহাদের মতো ‘অপরাধ’ রুখতে।
থানের এক ৭০ বছর বয়সি মৌলবি ওই আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টে মামলা করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই আইন ইচ্ছামতো ধর্মপালন এবং ধর্মপ্রচারের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। যা সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। কিন্তু বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি মহেশ ত্রিপাঠি এবং বিচারপতি অ্যাডভেট সেথনার ডিভিশন বেঞ্চ সাফ বলে দিল, ধর্মপ্রচার বা পালনের স্বাধীনতায় এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। কিন্তু এভাবে বিয়ের ঠিক একদিন আগে ধর্মবদল সমর্থনযোগ্য নয়।
আদালত বলছে, “এই আইন সমাজের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবধারা বজায় রাখতে আনা। রাজ্য সরকার জোর করে বা চাপ দিয়ে ধর্ম বদল নিয়ে চিন্তিত। যে কেউ ইচ্ছামতো ধর্মবদল করতে পারে। কিন্তু স্রেফ বিয়ের জন্য ধর্মবদল সেটা সমর্থনযোগ্য নয়।” বম্বে হাই কোর্টের সাফ কথা, “আপনারা অন্যদের ধর্মবদলে প্রভাবিত করছেন। রাজ্য সরকার সেটাতে বাধা দিয়েছে। মনে হচ্ছে আপনাদের আবেদনে কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। ঠিকমতো আবেদন করুন।” মৌলবির আর্জি খারিজ করেছে বম্বে হাই কোর্ট।
