শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সহিংস আচরণ ও শিক্ষকদের অবমাননার একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বগুড়ায় স্কুলে শাসন করায় শিক্ষককে রাস্তায় গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে চট্টগ্রামের রাউজানে চুল না কাটা ও পরীক্ষায় দেরিতে আসায় শাসন করায় শিক্ষকের চোখে কলম দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির আরেক ছাত্র। এ ছাড়া বরিশালে অধ্যক্ষের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার পর তোপের মুখে পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে শিক্ষার্থীরা। একের পর এক এসব অপ্রীতিকর ঘটনায় সারাদেশে শিক্ষক সমাজ, অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর—
বগুড়া : বিদ্যালয় ছুটির পর মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বগুড়া বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শরীরচর্চা শিক্ষক রায়হান ইসলামের ওপর হামলা চালায় একই প্রতিষ্ঠানের সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। গত সোমবার বিকালে বগুড়া আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সামনে এ ঘটনা ঘটে। গাছের ডাল দিয়ে মুখ ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাতে জখম শিক্ষকের থুতনিতে
আটটি সেলাই দিতে হয়েছে। ঘটনার পর দিন মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান।
রাউজান (চট্টগ্রাম) : চট্টগ্রামের রাউজান আরআরএসি মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কারিগরি শাখার টেকনিক্যাল শিক্ষক সুচরিৎ চৌধুরীকে কলম দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের নবম শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ ইউসুফ। গত সোমবার পরীক্ষা চলাকালে হলে দেরিতে প্রবেশ ও চুল না কাটায় শাসন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই ছাত্র শিক্ষকের চোখের পাশে কলম দিয়ে আঘাত করে। রক্তাক্ত শিক্ষককে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহম্মদ জানান, এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী কিশোর গ্যাং বা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাউজান ইউএনও এসএম রাহাতুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত ছাত্র বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে।
বরিশাল : বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাথমিক শাখা বন্ধ বা চালু রাখা নিয়ে বিতর্ক চলাকালে অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহার কক্ষে গিয়ে কতিপয় শিক্ষার্থী তার সঙ্গে মারাত্মক অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার দাবি জানান ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। অভিভাবকদের কঠোর অবস্থানের মুখে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে তার পা ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করে। অধ্যক্ষ তপন কুমার সাহা শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করে দিয়ে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মন্তব্য করেন, কোনো দাবি বা অভিযোগ থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিক ও শালীনভাবে উপস্থাপন করা উচিত, শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষাগুরুদের প্রতি শিক্ষার্থীদের এমন সহিংস আচরণ ও শ্রদ্ধাবোধের অবক্ষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অতি দ্রুত প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
