ঘটনার অনেক আগে থেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করা এক প্রবাসীকে মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে দেখানো এবং তাঁর নামে মিথ্যা জবানবন্দি রেকর্ড করার অভিযোগে কিশোরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহাসীনুল হকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, কিশোরগঞ্জ থানার জিআর ৩২৮/২০২৫ (কিশোরগঞ্জ) মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মাহাসীনুল হক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, মামলার সাক্ষী মো. আশরাফুল ইসলাম (পিতা: মৃত জামাজ্জল হক, সাং: মাগুড়া সবুজপাড়া, নামাটারী, কিশোরগঞ্জ, নীলফামারী) ঘটনার অনেক আগে থেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অথচ তদন্তকারী কর্মকর্তা তাঁকে মিথ্যাভাবে মামলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে দেখিয়েছেন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন।
পরে আদালতের নির্দেশে কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, ঘটনার সত্যতা নিরূপণের জন্যই পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এজাহারকারীর উপস্থাপিত সাক্ষীকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা কোনো তদন্ত কর্মকর্তার কাজ নয়।
আদালত আরও বলেন, তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সত্য-মিথ্যা উদ্ঘাটন এবং প্রকৃত ঘটনা আদালতের সামনে তুলে ধরাই তদন্ত কর্মকর্তার মূল দায়িত্ব। কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই কেবল এজাহারকারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে ১৬১ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার অজুহাতে তদন্ত কর্মকর্তা দায় এড়াতে পারেন না।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, একজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই এভাবে উপস্থাপন করা চরম অপেশাদারত্বের শামিল। এতে শুধু তদন্ত প্রতিবেদনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়নি, বরং জনসমক্ষে পুলিশের কার্যক্রমও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ ধরনের প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আদালতের পক্ষে অপরাধ আমলে নেওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়বে।
তদন্ত কর্মকর্তার এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে দ্রুত যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি গৃহীত ব্যবস্থা লিখিতভাবে আদালতকে অবহিত করতে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমএ
