বাউফলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৩০০ পরিবারের মাঝে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বণ্টনে দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে সতর্ক করে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পটুয়াখালীর বাউফলে হিন্দু সম্প্রদায়ের ৩০০ অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বণ্টনে দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে বাউফল উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় বরাদ্দে কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।” দলমত, ধর্মবর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বণ্টন করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বে থাকলে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের এক পয়সাও তছরুপ হয় না, হবে না। জনগণের জন্য যা বরাদ্দ হয়, তা জনগণের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে। রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বণ্টনে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ কিংবা স্বজনপ্রীতি জামায়াত করে না, করতে দেবে না।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উদ্দেশে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বিগত ৫৫ বছর যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল, তারাই হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষকে এ দেশে সংখ্যালঘু হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। সরকার নাগরিকদের মধ্যে জাতিগত বিভাজন সৃষ্টি করে সমাজে বৈষম্য তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী জাতিগত বিভাজনের ভিত্তিতে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠতায় বিশ্বাস করে না। দলটি বিশ্বাস করে, সমাজের প্রতিটি মানুষ নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে সমান ও অভিন্ন মর্যাদার অধিকারী।
সরকারের ব্যর্থতা ও বিদ্যমান ব্যবস্থার কারণে মন্দির পাহারা দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জামায়াতে ইসলামী ব্যবস্থার পরিবর্তন চায়। এ জন্য রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার প্রয়োজন। রাষ্ট্র সংস্কার হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে পূজা বা উৎসব পালনের সময় পাহারা দিতে হবে না। মসজিদের মতো মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও পাহারার প্রয়োজন হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের জন্য দলমত, ধর্মবর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে পাওয়া ৩০০ শাড়ি উপজেলার ৩০০ অসহায়, দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দুপুরে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বাউফল উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং আর্থিক সহায়তা দেন। এ সময় তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করে বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে পালনে প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
