বাজারে সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে দেশের অন্যতম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে মসলা জাতীয়পণ্য এলাচ দুটি গোডাউনে মজুদ করে রাখা হয়েছে। গুদাম দুটিতে অন্তত ৫০০ টন এলাচ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। খাতুনগঞ্জের সব এলাচ আমদানিকারকের কাছ থেকে কৌশলে সংগ্রহ করে সাতজনের একটি সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণে নেয়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি এলাচের দাম বেড়েছে ৫০০ টাকা। এলাচ সিন্ডিকেটের গুদামে আটকা থাকলেও চলছে স্লিপ বাণিজ্য; হাতবদলেই বাড়ছে দাম।
যে গুদাম দুটিতে এলাচ রাখা হয়েছে, সেগুলো হলো- খাতুনগঞ্জের সবচেয়ে বড় গুদাম হিসেবে পরিচিত অনীল বাবুর গুদাম (২৩২ নম্বর নবী সুপার মার্কেট) ও মেসার্স শাহবাজ ট্রেডার্স প্রকাশ সেলিমের গুদাম (বার আউলিয়া কৃষিপণ্যের দোকানের পাশে)। এখানে যেসব প্রতিষ্ঠানের এলাচ রয়েছে, মোহাম্মদ কায়সারের মালিকানাধীন প্রাইম ট্রেডিং, আনিসের মালিকানাধীন আনিস ব্রাদার্স, মো. শাহেদের আরএম এন্টারপ্রাইজ, আজিজ মেম্বারের আল মারওয়া, মো. হাসানের হাসান করপোরেশন, লিটনের এএম এন্টারপ্রাইজ, রাইসা মাহবুবের মেসার্স আলম ট্রেডিং করপোরেশন।
জানা গেছে, খাতুনগঞ্জের বাজারে অন্তত ৩০ রকমের এলাচ বেচাকেনা
হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা জিবিসি ও এলএমজি ব্র্যান্ডের এলাচের। এই এলাচ অধিকাংশই আসতো মধ্য আমেরিকার দেশ গুয়েতেমালা ও ভারত থেকে। দাম বাড়ায় গত দুই বছর ধরে গুয়েতেমালা থেকে জিবিসি বাংলাদেশে আমদানি হয়নি। ফলে এলএমজি বেশি আমদানি হচ্ছে এবং হাতবদল হচ্ছিল। গত এক বছর ধরে বিভিন্ন জটিলতায় এলএমজিও আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। দুটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের এলাচের মজুদ কমে যায় এবং সাম্প্রতিক সময়ে কিছু জটিলতার কারণে ভারত থেকেও এলাচ আমদানি কমে যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাতজনের সিন্ডিকেট এই দুই ধরনের এলাচ যাদের কাছে, তাদের তথ্য সংগ্রহ করে। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব এলাচ কিনে নেয়। স্বাভাবিক দামেই তা কেনা হয়। সব এলাচ একত্রিত করে তা বিক্রি না করে গুদামে রেখে দেয়। ফলে প্রতি কেজি ৩ হাজার ৯০০ টাকার এলাচের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৪০০ টাকায়। এখন আর কেউ চাইলেও তারা এলাচ বিক্রি করে না।
এদিকে খাতুনগঞ্জে এলাচ নিয়ে চলছে স্লিপ বাণিজ্য। সাদা কাগজে এলাচের নাম ও দাম লিখে এই বাণিজ্য চলছে। এলাচ সরবরাহ না করলেও প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ৫০০ টাকা। বাইরে কোনো ডেলিভারি না করে কেবল নিজেদের মধ্যে ট্রেডিং বা হাতবদল করে গরম মসলার বাজার অস্বাভাবিক করে তুলছে এই সিন্ডিকেট। যাদের বেশিরভাগই খাতুনগঞ্জে তেল-চিনি ও গমের স্লিপ বেচাকেনায় জড়িত।
খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্যবসায়ীদের এক কেজি পণ্যও বাইরে বেচাকেনা হয়নি। কিছু ভ্রাম্যমাণ মৌসুমি ব্যবসায়ী ও একশ্রেণির অসাধু মসলা ব্যবসায়ী ডিও (ডেলিভারি স্লিপ) বেচাকেনার মাধ্যমে ইচ্ছামতো বাজার ওঠানামা করাচ্ছেন। এতে প্রকৃত মসলা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দাম বাড়াতে বাজারে সংকট তৈরি অনৈতিক ব্যবসা। সরকারি সংস্থাগুলোর তদারকির অভাবে এমন হচ্ছে। এসব সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
জানতে চাইলে সিন্ডিকেট প্রধান প্রাইম ট্রেডিংয়ের মালিক মো. কায়সার বলেন, কাল (আজ মঙ্গলবার) অফিসে আসেন, কথা বলব। গুদামজাত করার কথা অস্বীকার করেছেন আনিস ব্রাদার্সের মালিক মো. আনিস।
