গভীর রাত। চারদিকে নিস্তব্ধতা। শারদীয় দুর্গোৎসবের উৎসবমুখর আমেজ শেষে দর্শনার্থীরা যখন বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছেন, তখনো যশোরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সজাগ দৃষ্টিতে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা। রাতের নীরবতা ভেদ করে মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁদের এই নিরলস প্রহরা যেন উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও পূজারিদের মনে নিরাপত্তার আশ্বাস জোগাচ্ছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের পবিত্রতা রক্ষা, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ণ রাখতে যশোরজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।
জানা গেছে, যশোর জেলার মোট ৭৪৩টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন সর্বমোট চার হাজার ৭৩৪ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য। তাঁদের মধ্যে এক হাজার ৪৮৬ জন নারী এবং তিন হাজার ২৪৮ জন পুরুষ সদস্য। গত ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ নিরাপত্তা প্রহরা চলবে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।
এর মধ্যে যশোরের কেশবপুর উপজেলার ১০২টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয়েছে মোট ৬৩০ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য। তাঁদের মধ্যে ৪২৬ জন পুরুষ এবং ২০৪ জন নারী সদস্য রয়েছেন।
প্রতিটি পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করছেন তারা। দায়িত্বপ্রাপ্ত সব সদস্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বাহিনীর নিজস্ব ‘এভিএমআইএস’ সফটওয়্যারে নিবন্ধিত। দায়িত্ব পালনের সময় প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ সততা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কেশবপুরে গভীর রাতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে যশোর জেলা কমান্ড্যান্ট নুরুল আফসার বলেন, আমাদের জেলাজুড়ে চার হাজার ৭৩৪ জন সদস্য দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই মণ্ডপের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন। মধ্যরাতেও তারা অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সজাগ রয়েছেন। এ ছাড়া যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা ঘটামাত্র তা প্রতিহত করতে আমাদের ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ এবং ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্ট্রাইকিং টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তা সফলভাবে মোকাবিলা করছে।
নুরুল আফসার আরও বলেন, যশোরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে না বলে আশা করি। তাৎক্ষণিকভাবে যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সামর্থ্য বাহিনীর রয়েছে।
এদিকে, গভীর রাতেও প্রশাসনের এমন সুশৃঙ্খল ও সক্রিয় উপস্থিতি সাধারণ মানুষ ও পূজারিদের মনে গভীর স্বস্তি এনে দিয়েছে। উৎসবের আনন্দ নির্বিঘ্ন রাখতে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের এই দায়িত্বশীল ভূমিকা কেশবপুরসহ পুরো যশোর জেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সবাই যখন ঘুমে, তখনো নিরাপত্তার দায়িত্বে জেগে রয়েছেন তাঁরা। তাঁদের এই নিরলস প্রহরার লক্ষ্য—পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর রাখা।
