দুই দিন বৃষ্টির দাপট, এরপর স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার ধাক্কা খাওয়া। গেবেখার টেস্টে নাটকীয়তার অভাব ছিল না। ম্যাচের একপর্যায়ে ১১০ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল স্বাগতিকেরা। সেখান থেকে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার অবিশ্বাস্য ধৈর্য আর সতীর্থদের লড়াইয়ে ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। এরপর বল হাতে অস্ট্রেলিয়াকে দুবার গুঁড়িয়ে দিয়ে স্মরণীয় এক জয় তুলে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
গেবেখার সেন্ট জর্জেস পার্কে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ও ৩১ রানে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ইনিংসে ৪২৫ রান তুলে অস্ট্রেলিয়াকে ৯৯ রানে অলআউট করার পর ফলোঅন করায় স্বাগতিকেরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯৫ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার লড়াই। এই জয়ে তিন টেস্টের সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে টেম্বা বাভুমার দল।
প্রথম দুই দিনের বৃষ্টিতে ম্যাচের অনেকটা সময় নষ্ট হয়েছিল। এরপরও ফল বের করে আনার পেছনে বড় ভূমিকা বাভুমার ১৭৯ রানের ইনিংসের। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ৩৩৪ বল খেলে গড়েন ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট ইনিংস। তাঁর সঙ্গে মার্কো ইয়ানসেনের ৮৫ ও সাইমন হার্মারের ৮২ রান দক্ষিণ আফ্রিকাকে এনে দেয় শক্ত অবস্থান। একসময় ১১০ রানে ৬ উইকেট হারানো দলটি শেষ পর্যন্ত ৪২৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে।
এরপর প্রোটিয়া বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। ফলোঅন করানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েও অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রাখে স্বাগতিকেরা। তবে এবার কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে সফরকারীরা। বিশেষ করে ট্রাভিস হেডের সেঞ্চুরি ও স্কট বোল্যান্ডের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায় তারা।
চতুর্থ দিন শেষে ৪ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। শেষ দিনে তাদের লক্ষ্য ছিল যতটা সম্ভব উইকেট হাতে রেখে ম্যাচ বাঁচানোর চেষ্টা। সেই চেষ্টায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন হেড। আগের দিনের ৮৭ রানের সঙ্গে আরও রান যোগ করে ১৯০ বলে ১২১ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৫টি চার। ফলোঅনে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সেঞ্চুরি করে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
তবে হেডের বিদায়ের পর প্রতিরোধের ভার পড়ে বোল্যান্ডের ওপর। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নেমে দীর্ঘ সময় উইকেট আগলে রাখেন তিনি। ১৬৬ বলের ইনিংসে ৪০ রান করেন বোল্যান্ড। তাঁর সঙ্গে হেডের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে কিছুটা আশা দেখালেও দক্ষিণ আফ্রিকার বোলাররা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করেননি।
ভিয়ান মুল্ডার হেডকে ফিরিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাক্কা দেন। পরে বোল্যান্ডকেও আউট করেন তিনি। এরপর কাগিসো রাবাদা ও মার্কো ইয়ানসেন দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার লেজের ব্যাটসম্যানদের বিদায় করে দেন। রাবাদা দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নেন, মুল্ডারের শিকার ৩টি। দুই ইনিংস মিলিয়ে ইয়ানসেনের উইকেটসংখ্যা ৬। ম্যাচসেরার পুরস্কার উঠে টেম্বা বাভুমার হাতে।
সিরিজের ভাগ্য নির্ধারিত হবে কেপ টাউনে, আগামী মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টে।
