দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকেও দুর্গাপূজায় নিজের বাড়ির মন্দিরে কোনো সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কিংবা দলের শীর্ষ নেতাকে পাননি। সেই আক্ষেপের কথা জানাতে গিয়ে এবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন কোটালীপাড়ার কুশলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দিলীপ বাড়ৈ। তবে তার সেই আক্ষেপ ঘুচেছে বিএনপির সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর মন্দির পরিদর্শনকে ঘিরে। প্রিয় অতিথিকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশের পাশাপাশি জানালেন কৃতজ্ঞতা, করলেন এলাকার উন্নয়নের দাবি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী কোটালীপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের মান্দ্রা গ্রামে দিলীপ বাড়ৈর বাড়ির দুর্গামন্দির পরিদর্শনে গেলে এ আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর আগে তিনি কলাবাড়ী, কুশলা, হিরন ও পিঞ্জুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন।
মন্দিরে সংসদ সদস্যকে স্বাগত জানিয়ে দিলীপ বাড়ৈ বলেন, এলাকাবাসীসহ আমরা গর্বিত যে এমন একজন এমপি পেয়েছি। এটি আমাদের জীবনের উল্লেখযোগ্য একটি দিন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করেছি, কিন্তু কোনো পূজায় দলের বড় নেতা, এমপি কিংবা মন্ত্রীকে এখানে আসতে দেখিনি। আপনি প্রথম আমাদের এখানে এসেছেন। আমরা আপনার প্রতি কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তারা অন্য কোনো দলে ভোট দিতে চাননি। তবে এলাকার রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানীর প্রতি সমর্থন জানান। বিএনপির প্রার্থী এস এম জিলানী ভাইকে ব্যক্তিগতভাবে না চিনলেও তার কার্যক্রম সম্পর্কে জানি। একজন মানুষ হিসেবে তাকে কোনোভাবেই খারাপ বলা যাবে না। তিনি ভোট পাওয়ার যোগ্য।
দিলীপ বাড়ৈ আরও বলেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। জিলানী নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় তারা আশাবাদী হয়েছেন। এ সময় তিনি মন্দিরের উন্নয়নসহ এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের দাবি জানান। সংসদ সদস্য এসব দাবি পূরণের আশ্বাস দেন।
জবাবে এস এম জিলানী উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের আগে আমি আপনাদের কথা দিয়েছিলাম, আমাকে ভোট দিলে আপনাদের ছেড়ে যাব না। আপনারা আপনাদের কথা রেখেছেন, আমাকে ভোট দিয়ে ঋণী করেছেন। এখন আমার ঋণ পরিশোধের পালা। আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের ছেড়ে যাব না। আমার জীবনের সবটুকু দিয়ে আপনাদের পাশে থাকব।
দুর্গাপূজা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে এ অঞ্চলের সম্প্রীতি বজায় রাখা হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নির্ভয়ে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য তিনি তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়াকে শান্তি ও সম্প্রীতির আবাসভূমিতে পরিণত করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যকে নাড়ু, মিঠাই, লুচি ও বিভিন্ন প্রকার ফল দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছলেমান শেখ, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম হাওলাদার ও মানিকুজ্জামান হাওলাদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রঞ্জন মল্লিক ও সদস্যসচিব মান্নান শেখ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মাহবুব খান ও সদস্যসচিব মাসুদ তালুকদারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
