মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে সংঘটিত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি অফিস আদেশের মাধ্যমে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বহিষ্কৃত ওই শিক্ষার্থীর নাম সৈকত হালদার। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী (রোল: ১১৮৬, রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২০২২২০৫৫৭৯২) এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের আবাসিক ছাত্র।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটুউক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে “জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮”-এর ৪ (১) (খ) ধারা অনুযায়ী সৈকত হালদারকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো।
অপর এক অফিস আদেশে জানানো হয়, দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ২৯৫ (ক) ধারা অনুযায়ী ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা একটি গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলানীতির ২ (গ) ধারা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ তদন্তপূর্বক সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে শৃঙ্খলা অধ্যাদেশের ৪ (১) (ক) ধারা মোতাবেক একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত এই তদন্ত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মনছুর। এছাড়া কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. কে এম জাহিদুল ইসলাম ও ড. মো. আলমগীর কবির। আর কমিটির সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মাহতাব-উজ্জ-জাহিদ।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠিত এই তদন্ত কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।
