লক্ষ্মীপুজো মানেই মাটির বা পিতলের মূর্তিতে দেবীর আরাধনা, এমনটাই পরিচিত ছবি। তবে বহু বাঙালি পরিবারে আজও মাটির সরায় আঁকা দেবীর রূপেই পুজো করা হয়। কেন এই প্রথা? এর নেপথ্যে রয়েছে বাংলার ঐতিহ্য, লোকাচার এবং দেশভাগের স্মৃতি।
আনন্দ উৎসব ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৪৬
০১ / ১১
লক্ষ্মীপুজো বললেই অধিকাংশের চোখে ভেসে ওঠে মাটি বা পিতলের প্রতিষ্ঠিত মূর্তি। কিন্তু মূর্তির বদলে মাটির সরায় দেবীকে এঁকে পুজো করার রীতিও বাংলায় দীর্ঘদিনের। এই প্রথাকে ঘিরে নানা কাহিনি ও লোকবিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে।
০২ / ১১
বাঙালি সংস্কৃতিতে মূর্তি বা প্রতিমার পাশাপাশি মাটির সরা, অর্থাৎ লক্ষ্মীসরা দিয়ে পুজোর চল বহু পুরনো। বাংলার নিজস্ব লোকশিল্প ও ধর্মীয় আচার মিলেমিশে এই প্রথাকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।
০৩ / ১১
বাংলার বহু পরিবারে, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে, প্রতিমার বদলে মাটির তৈরি সরায় রং দিয়ে দেবী লক্ষ্মীর রূপ আঁকা হয়। সেই আঁকা রূপকেই পুজোর আসনে প্রতিষ্ঠা করে চলে আরাধনা।
০৪ / ১১
মূলত পূর্ববঙ্গের বাঙালিদের মধ্যে এই প্রথার বিশেষ প্রচলন ছিল। বাঙালদের বহু পরিবারে আজও লক্ষ্মীপুজোয় সরায় দেবীর আরাধনা করা হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই রীতি পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হয়ে রয়েছে।
০৫ / ১১
লক্ষ্মীসরারও রয়েছে নানা ধরন। ঢাকাই সরা, ফরিদপুরী সরা, শান্তিপুরী সরা এবং সুরেশ্বরী সরা, এমনই কয়েকটি পরিচিত শৈলী। অঞ্চলভেদে সরার আঁকার ধরন ও শিল্পরীতিতে দেখা যায় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
০৬ / ১১
সব সরায় যে শুধু দেবী লক্ষ্মীর ছবিই আঁকা হয়, তা নয়। অঞ্চলভেদে লক্ষ্মীর সঙ্গে জয়া-বিজয়া, রাধা-কৃষ্ণ কিংবা সপরিবার দুর্গার ছবিও দেখা যায়। নদিয়ার তাহেরপুর, নবদ্বীপ এবং উত্তর ২৪ পরগনার কয়েকটি অঞ্চলে এই সরা শিল্প বিশেষ ভাবে প্রচলিত।
০৭ / ১১
এক সময়ে বড় আকারের প্রতিমা তৈরি করা বা তা বহন করে আনা সব পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। অর্থও ছিল বড় বাধা। সেই তুলনায় মাটির সরা সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে সরা সংগ্রহ করে পুজো করা সহজ হত। এ ভাবেও সরায় লক্ষ্মীপুজোর প্রথা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
০৮ / ১১
বাংলায় দেবী লক্ষ্মী মূলত ধান্যলক্ষ্মী বা শস্যদেবী হিসাবেও পূজিতা হন। মাটি দিয়ে তৈরি সরা সরাসরি মাটি ও প্রকৃতির সঙ্গে যুক্ত। তাই এই উপকরণের সঙ্গে উর্বরতা এবং শস্যসম্পদের প্রতীকী সম্পর্কও খুঁজে পাওয়া যায়।
০৯ / ১১
লোককথা অনুযায়ী, ভারত ও বাংলাদেশ ভাগ হওয়ার সময়ে পূর্ববঙ্গের বহু মানুষ এ পারে চলে আসেন। তাঁদের অনেকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন লক্ষ্মীসরা। সেই সূত্র ধরেই পশ্চিমবঙ্গের নানা পরিবারে সরায় লক্ষ্মীপুজোর প্রচলন শুরু হয় বলে মনে করা হয়।
১০ / ১১
দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার ধরন একেক পরিবারে একেক রকম। কেউ মূর্তিতে পুজো করেন, কেউ আবার সরায় আঁকা দেবীর রূপে। অনেক ক্ষেত্রেই কোন পদ্ধতিতে পুজো হবে, তা নির্ভর করে পরিবারের দীর্ঘদিনের রীতি ও ঐতিহ্যের উপর।
১১ / ১১
বর্তমানে লক্ষ্মীসরার চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই শিল্পেও এসেছে নানা বৈশিষ্ট্য। কৃষ্ণনগর এবং কুমোরটুলিতে গড়ে উঠেছে দু’টি পৃথক অঙ্কনশৈলী। ফলে পুজোর উপকরণ হওয়ার পাশাপাশি লক্ষ্মীসরা বাংলার নিজস্ব লোকশিল্পেরও পরিচয় বহন করে। এই প্রতিবেদনটি আনন্দ উৎসব ফিচারের একটি অংশ।
পরবর্তী গ্যালারি
দেবীর পায়ের ছাপ রাখতে চান! লক্ষ্মীপুজোর আগে ঘরের কোন কোন জিনিস বদলে দিতে পারে সংসারের চেহারা?
পুরাণ ও জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মীর আশীর্বাদে সংসারে আসে সুখ-সমৃদ্ধি। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে ঘরে কোন কোন জিনিস রাখার কথা বলা হয়? জেনে নিন।
আনন্দ উৎসব ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৪৭
০১ / ১২
কোজাগরী পূর্ণিমায় ঘরে ঘরে আরাধিত হবেন দেবী লক্ষ্মী। ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবীর আশীর্বাদ পেতে নানা নিয়ম মেনে পুজোর আয়োজন করেন ভক্তেরা।
০২ / ১২
প্রচলিত বিশ্বাস, দেবী লক্ষ্মী আড়ম্বরের চেয়ে ভক্তির টানেই বেশি সন্তুষ্ট হন। তবে পুজোর আয়োজনের পাশাপাশি গৃহস্থের পরিবেশ ও কিছু নির্দিষ্ট প্রতীক নিয়েও নানা রীতি প্রচলিত রয়েছে।
০৩ / ১২
০৪ / ১২
দেবী লক্ষ্মীর পায়ের ছাপকে শুভ ও সমৃদ্ধির প্রতীক বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, গৃহস্থের অশুভ শক্তি দূর করতে এই প্রতীক সহায়ক। তবে জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, শুধু পায়ের ছাপ রাখলেই হয় না, কোথায় রাখা হচ্ছে, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ।
০৫ / ১২
প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, বাড়ির সদর দরজায় দেবী লক্ষ্মীর পায়ের ছাপ রাখা শুভ। বিশ্বাস করা হয়, এই পথ দিয়েই দেবী গৃহস্থের ঘরে প্রবেশ করেন। তাই প্রবেশপথে তাঁর পায়ের চিহ্ন রাখার রীতি বহু দিন ধরেই প্রচলিত।
০৬ / ১২
পুরাণ ও জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মীর কৃপায় সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে। কর্মক্ষেত্র ও ব্যবসায় উন্নতির পাশাপাশি আর্থিক স্থিতি বজায় থাকুক, এমন কামনাতেই অনেকে বাড়িতে তাঁর পায়ের ছাপ রাখেন। বিশ্বাস করা হয়, এর ফলে সংসারে ইতিবাচক শক্তির পরিবেশ তৈরি হয়।
০৭ / ১২
হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে স্বস্তিক চিহ্নকে শুভ প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বাড়ির প্রবেশপথে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকলে অশুভ শক্তির প্রবেশ বাধা পায়। তাই পুজোর আগে অনেকেই বাড়ির দরজায় এই চিহ্ন আঁকেন।
০৮ / ১২
পুরাণে কুবেরকে ধন-সম্পদের অধিপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই অনেকের বাড়িতে কুবেরের ছবি রাখা হয়। প্রচলিত ধারণা, কুবেরের আশীর্বাদে সংসারে ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পায়। তাই লক্ষ্মীপুজোর আগে ঘরে তাঁর ছবি রাখার রীতিও দেখা যায়।
০৯ / ১২
দেবী লক্ষ্মীর পাশাপাশি অনেক বাড়িতে গণেশের মূর্তি রাখার রীতিও রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, গণেশের আরাধনায় বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং সংসারে শুভ শক্তির প্রভাব বজায় থাকে। সেই কারণেই পুজোর আয়োজনের সময় অনেকে বাড়িতে গণেশের মূর্তি রাখেন।
১০ / ১২
দেবী লক্ষ্মীর পায়ের ছাপকে ঘিরে নানা লোকবিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে। অনেকে মনে করেন, বাড়িতে এই চিহ্ন থাকলে ইতিবাচক শক্তির পরিবেশ বজায় থাকে এবং সংসারের আর্থিক টানাপড়েন কমে।
১১ / ১২
দেবী লক্ষ্মীর আরাধনায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের বদলে পরিচ্ছন্ন ও গোছানো গৃহস্থেই দেবী বিরাজ করতে পছন্দ করেন। তাই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর আগে ঘরদোর পরিষ্কার রাখা এবং পুজোর স্থান পরিচ্ছন্ন রাখার দিকে নজর দেন অনেকে।
১২ / ১২
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মীর কৃপা পেতে পুজোর নিয়ম পালনের পাশাপাশি বাড়ির পরিবেশও পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ রাখা জরুরি। তবে এই রীতিগুলি মূলত প্রচলিত ধর্মীয় ও জ্যোতিষশাস্ত্রভিত্তিক বিশ্বাসের অংশ। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)
