- ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
শম্ভুনাথ পোদ্দার (মৃত শ্রীপর্ণার বাবা): মেয়ের সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টার সময় ফোনে কথা হল। ও বলল, ‘বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছি। খাওয়া দাওয়া হয়ে গিয়েছে। এবার চোরবাগানের মণ্ডপে যাচ্ছি।’ বাবার মন তো। তখনই সতর্ক করে বললাম — সাবধানে ঘুরবি মা। পুজোয় কলকাতার ব্যাপক ভিড় হয়। গাড়িঘোড়ার চাপও থাকে। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরিস। তখনও ভাবিনি, মেয়ের সঙ্গে সেটাই হবে আমার শেষ কথা! এরপর সাতটা নাগাদ একটি ফোন এল। জানতে পারলাম মেয়ের কিছু একটা হয়েছে। ফোনের কথা মতো হাসপাতালের উদ্দেশে স্ত্রীকে নিয়ে রওনা হলাম। রাস্তাতে আরও একটা ফোন কল। আর তাতেই জানতে পারলাম, মেয়ে আর নেই। মনে হল আশপাশ সব ফাঁকা। সব শেষ!
বৈদ্যবাটি থেকে আমাদের আসতে দেরি হবে। তাই চেতলায় মেয়ের মামবাড়িতে খবর পাঠালাম। ওর মামা বিশ্বজিৎ দে তাড়াতাড়ি কলকাতা মেডিকেল কলেজে পৌঁছে যায়। গিয়ে দেখে ইমারজেন্সিতে পড়ে রয়েছে শ্রীপর্ণার নিথর দেহ। শরীরের নানা জায়গায় ক্ষত। শরীরের নানা জায়গা ফুলে গিয়েছে। এরপর আমি হাসপাতালে এলাম। পুলিশের উপস্থিতিতে দেহ শনাক্ত করি। একজন কন্যাহারা বাবার এখন একটাই প্রশ্ন, কার গাফিলতিতে মেয়েকে হারালাম? এত প্রস্তুতি। তার পরেও এতগুলি প্রাণ কেন ঝড়ল? আমার বক্তব্য স্পষ্ট, এটা সরকারের গাফিলতি। পুলিশকে এর দায় নিতেই হবে। আসলে এই সরকার মানুষ মারার পুজো করছে।
