জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে জঙ্গলে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু আর ঘরে ফেরা হলো না মেইতেই সম্প্রদায়ের তিন ব্যক্তির। তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের মরদেহ নিয়ে তারা হাজির হন মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতের মণিপুরের ইম্ফলে নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় ইম্ফল পূর্ব ও কাংপোকপি জেলার সীমান্তে নংশুম গ্রামের কাছে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম দ্যপ্রিন্টকে জানিয়েছেন, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া কয়েকজনের ওপর সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি চালান।
এতে তিনজন নিহত হন, আহত হন আরও কয়েকজন।
বিজ্ঞাপন
Chaired a security meeting at the Cabinet Hall of my Secretariat, Babupara, today along with Hon'ble Home Minister Shri Govindas Konthoujam. I strongly condemned the killing of innocent civilians by armed miscreants at Nongshum, Imphal East, today. The meeting reviewed the overall security situation of the state and discussed yesterday's unfortunate incident in Thoubal district and today's tragic incident in Imphal East. I have directed the officials to strengthen security measures in vulnerable areas of the state. The meeting was attended by Chief Secretary Shri Rajeev Singh Thakur, Security Advisor Shri Kuldiep Singh, DGP Shri Mukesh Singh, Commissioner (Home) and high-ranking officers of the Army, Assam Rifles, CRPF, BSF and other security agencies. — Khemchand Yumnam (@YKhemchandSingh) October 19, 2026
আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য ইম্ফলের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে, মেইতেই সম্প্রদায়ের সংগঠন মেইতেই হেরিটেজ সোসাইটি এ হামলার জন্য ‘কুকি সম্প্রদায়ের সশস্ত্র ব্যক্তিদের’ দায়ী করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, ওই এলাকায় থাকা একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর শিবির ২০২৬ সালের জুনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শিবির সরিয়ে নিলে সেখানে হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল তাদের।
বিজ্ঞাপন
সংগঠনটি আরও জানায়, ওই এলাকায় হামলা হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। এরপরও কেন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়নি, সে প্রশ্নের জবাব মুখ্যমন্ত্রীকে দিতে হবে।
পাশাপাশি, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞাপন
হামলার পর নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের মরদেহ মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে রেখে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে। পরে, মরদেহ দুটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
একই সঙ্গে, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
পরে, মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিং নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠক করেন এবং হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানান। নেমচা কিপগেনও হামলার নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে, গুজব এড়িয়ে চলতে এবং পাল্টা সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খামেনলোক এরিয়া কোর কমিটি (ক্যাকো)। হামলার দায় তাদের ও ওই অঞ্চলের কুকি-জো সম্প্রদায়ের ওপর চাপিয়ে দিয়ে কেউ নতুন করে সংঘাত উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা সংগঠনটির।
২০২৩ সালের তিন মে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে মণিপুরে জাতিগত সহিংসতা চলছে। এ সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান ও নতুন মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে ফের উত্তেজনা বেড়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
এমআরএইচ/
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
