স্যার আমাকে চেনেন, এটাই বড় পাওয়া: এসপি মাসুদ আলম
একটি আন্তরিক প্রশ্নেই আনন্দিত চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানবন্দরে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তাঁকে নাম ধরে জিজ্ঞেস করেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ প্রধানমন্ত্রীর এই পরিচিতি ও আন্তরিক খোঁজখবরকে নিজের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। মাসুদ আলম জানিয়েছেন, এই স্বীকৃতি তাঁকে দেশের জন্য আরও উৎসাহ নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।
চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘটে এই ঘটনা। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চট্টগ্রামের জে এম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যাওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এই শুভেচ্ছা বিনিময় হয় পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের।
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এমন আন্তরিকতা পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করে মাসুদ আলম বলেন, ‘এটি আমার জন্য গর্বের। স্যার আমাকে চেনেন, এটি আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আমি তো কাজের মানুষ; আরও উৎসাহ নিয়ে দেশের জন্য কাজ করে যাব।’
মাসুদ আলমের বক্তব্যে উঠে এসেছে ব্যক্তিগত আনন্দের পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনের অনুপ্রেরণার কথাও। তাঁর কাছে প্রধানমন্ত্রীর এই খোঁজ নেওয়া কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং কর্মজীবনের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান তাঁকে চেনেন এবং মনে রেখেছেন—এই বিষয়টিকেই বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।
এর আগেও সম্প্রতি হাটহাজারীতে প্রধানমন্ত্রীর একটি অনুষ্ঠানে মাসুদ আলমকে ডেকে তাঁর খোঁজখবর নিয়েছিলেন তারেক রহমান। ফলে মঙ্গলবারের ঘটনাটি তাঁর কাছে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সামরিক বিমানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেনসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিমান থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমের সামনে এসে তাঁর সঙ্গে করমর্দন করেন তারেক রহমান। এরপর সহজাত ভঙ্গিতে তাঁর খোঁজ নিয়ে বলেন, ‘কী খবর মাসুদ, ভালো?’ উত্তরে মাসুদ আলম বিনয়ের সঙ্গে ‘স্যার, স্যার’ বলে সাড়া দেন।
ঘটনাটি ছিল অল্প সময়ের। প্রধানমন্ত্রীর সামনে তখন আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কর্মসূচিও ছিল। তবে মাসুদ আলমের কাছে এই সংক্ষিপ্ত কথোপকথনের গুরুত্ব সময়ের দৈর্ঘ্যে নয়, বরং তাঁর পরিচিতি ও দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতির অনুভূতিতে।
প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক খোঁজখবরকে প্রেরণা হিসেবে নিয়ে দেশের জন্য আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।
