মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় বিভিন্ন করাতকলের বৈধ অনুমোদন ও পরিচালন লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরেজমিন অনুসন্ধানে কয়েকটি করাতকলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বৈধ ও হালনাগাদ পরিচালন লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। কেউ চলমান মামলার নথিপত্র দেখিয়েছেন, আবার কারও কাছে পাওয়া গেছে ২০১১, ২০১২ ও ২০১৩ সালের পরিবেশগত ছাড়পত্র। এ ছাড়া আবাসিক এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে করাতকল পরিচালনার অভিযোগও উঠেছে।
অনুসন্ধানে ভাটেরা এলাকার একটি করাতকলের মালিক পরিবেশগত ছাড়পত্র দেখাতে না পারলেও কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের একটি লাইসেন্স প্রদর্শন করেন। এ বিষয়ে অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক তপন বিকাশ চঞ্চঙ্গ্যা জানান, তাঁদের দপ্তর শ্রম আইন-সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স দিয়ে থাকে; করাতকল পরিচালনার জন্য বিশেষ লাইসেন্স প্রদান তাঁদের দায়িত্বের আওতাভুক্ত নয়।
অন্যদিকে, মৌলভীবাজার জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বন কর্মকর্তা উদ্যোগ নিলে সংশ্লিষ্ট করাতকলগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার এ বিষয়ে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে উপজেলা বন কর্মকর্তা রবীন্দ্র কুমার সিংহ জানিয়েছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় অধিকাংশ করাতকলে সরেজমিনে পরিদর্শন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।
করাতকলগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগের বিষয়ে কুলাউড়া পিডিবি জোনের প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই সংযোগ দেওয়া হয়েছে। বন বিভাগ কিংবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অবৈধ করাতকলের তালিকা সরবরাহ করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অনুসন্ধানকালে কয়েকটি করাতকলের কার্যালয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পোস্টার ও ব্যানার দেখা যায়। ভাটেরা এলাকার একটি করাতকলে কাগজপত্র সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না এবং প্রচলিত আইন মেনে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিই অধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ অবস্থায় কুলাউড়া উপজেলায় মোট কতটি করাতকল রয়েছে, এর মধ্যে কতটির বৈধ পরিচালন লাইসেন্স ও কার্যকর পরিবেশগত অনুমোদন রয়েছে—তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
করাতকলগুলোর বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সুরাহা করতে উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। করাতকলগুলোর অনুমোদন, তদারকি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানের বিস্তারিত থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।
The post কুলাউড়ায় বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই চলছে করাতকল, নীরব কেন প্রশাসন? appeared first on ভোরের চেতনা.
