দশেরার পর আশঙ্কামতোই ধোঁয়াশায় মুখ ডুবিয়েছে দিল্লি। রাজধানীর বাতাসে দূষিত কণার পরিমাণ গত পাঁচ বছর দশেরা-পরবর্তী সময়কালের নিরিখে সবচেয়ে বেশি। প্রবল নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দিল্লির একাংশে যথারীতি চুটিয়ে বাজি ফাটিয়েছেন বাসিন্দারা। তবে যা এখনও পুরোপুরি সুনিশ্চিত নয় তা হল এদের পরিমাণ এবং উৎসবের রাত শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তাদের প্রভাব কতদিন টিকে থাকবে।
জানা যাচ্ছে, দশেরার পরদিন, দিল্লির একিউআই ২৪৫। এই সময়কালে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর সূক্ষ্ম কণাগুলোর নত্ব ৮১ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার থেকে সর্বোচ্চ ২১৭ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার পর্যন্ত ছিল। রাতের সবচেয়ে দূষিত সময়ে এর গড় মাত্রা ছিল ১৯১.২ মাইক্রোগ্রাম/ঘনমিটার। দিল্লির কিছু এলাকায়, যেমন পাঞ্জাবি বাগে, পিএম২.৫ ৩০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। বৃহস্পতিবারও বায়ুর মান ‘খারাপ’ শ্রেণিতেই রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতশবাজি পোড়ানোর সময় পিএম২.৫ বৃদ্ধির জন্য দায়ী বিষাক্ত উপাদানগুলির মাত্রা আচমকাই হু হু করে বাড়তে থাকে। আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই দূষণ কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে! আসলে আতশবাজি তৈরি হয় কালো বারুদে। যাতে থাকে প্রায় ৭৫% পটাশিয়াম নাইট্রেট, ১৫% কাঠকয়লা এবং ১০% সালফার। বাজি জ্বালিয়ে দেওয়া হলে এই কঠিন মিশ্রণটি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই জারিত ও বিয়োজিত হয়ে বাতাসে ভাসমান কালি, ছাই এবং লবণের দানায় পরিণত হয়। বাজিতে থাকে ধাতুও। স্ট্রনশিয়াম বা লিথিয়াম কার্বনেট থেকে লাল, বেরিয়াম যৌগ থেকে সবুজ, তামা থেকে নীল এবং সোডিয়াম ক্লোরাইড থেকে হলুদ রং পাওয়া যায়। অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের গুঁড়ো থেকে রুপোলি ও সাদা রং তৈরি হয়। বিস্ফোরণের সময় এগুলো বাষ্পীভূত হয়। পরে শীতল বাতাসে ঘনীভূত হয়ে অতি-সূক্ষ্ম কণা ও কালো কার্বনে পরিণত হয়।
