রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের অংশ নেওয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন তিনি।
‘মাদকবিরোধী সংগ্রামের ষোলকলা পূর্ণ করা হবে’ হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে মাদকের আস্তানাগুলো বাঁশের লাঠি দিয়ে ধ্বংস করবেন। আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টা ১৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘কিছু নামকরা গণমাধ্যমের নামকরা আইনজীবী প্যানেল দিয়ে আইন এর ধারা স্পষ্ট করে ব্যাখা নেয়ার সামর্থ্য আছে এবং আমার বিশ্বাস তারা সে চর্চা করেও।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সব জেনে শুনে বুঝেও তাদের খবরের ধরন দেখে মনে হচ্ছে ঘুন্টিঘরে মাদকের এক্সক্লুসিভ সাপ্লায়ার ছিলো এরা। তাই আমার অভিযানের পর বন্য পশুর মতো আচরণ করছে।’
মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী লেখেন, ‘ওয়েট অ্যান্ড সি। সব মাদকের আখড়া (যারা হয়তো এই পেপারগুলোকে অর্থায়ন করে) ওগুলা মাটির সাথে মেশানো হবে।’
নিজের অস্ত্র বহনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্যে বৈধ লাইসেন্স করা অস্ত্র ছিলো। এখন থেকে এই আস্তানাগুলো বাঁশের লাঠি দিয়ে ধ্বংস করবো। পুলিশ দাঁড়ায় দাঁড়ায় দেখবে, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে করে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে। মাদকবিরোধী সংগ্রামের ১৬ কলা পূর্ণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে কয়েকজনকে ধরতে বলছেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরাও কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। ভিডিওতে একজনকে গুলি করার হুমকি দিতে শোনা যায়। এ ছাড়া একজন দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে নিয়ে কাউকে আটক করতে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতো অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না।
এদিকে এ ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে। রোববার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
