সুপ্রিম কোর্ট বার • ‘ব্রেকআপ পার্টি’তে গরুর মাংস ও হিন্দুদের জন্য খাসির মাংস রাখার দাবি
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের (এসসিবিএ) বার্ষিক ভোজ বা ‘ব্রেকআপ পার্টি’র ব্যয় কমানোর দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত খাবার নিশ্চিতে মুসলিম আইনজীবীদের জন্য গরুর মাংস ও হিন্দু আইনজীবীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাপনায় খাসির মাংসের আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া নিরামিষভোজী আইনজীবীদের জন্য আলাদা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা রাখারও প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বরাবর বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লিখিত আবেদন করেছেন আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, বার্ষিক ভোজের খরচ কমানোর পাশাপাশি সদস্যদের জন্য পর্যাপ্ত ও মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সক্রিয় সদস্য সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৪ জন। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে বার্ষিক ভোজ বাবদ ৮০০ টাকা করে নেওয়া হলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২০০ টাকা।
এত বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও বার্ষিক ভোজে পরিবেশিত খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষের কথা উল্লেখ করেন আবেদনকারী। তার দাবি, ভোজে খাসির মাংস পরিবেশনের কারণে ব্যয় বেড়ে যায়। বর্তমানে বাজারে খাসির মাংসের গড় দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। ফলে কয়েক দফায় খাবার পরিবেশনের পর অনেক সময় পর্যাপ্ত মাংস পাওয়া যায় না বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, তুলনামূলক কম দামে গরুর মাংসের ব্যবস্থা করা গেলে খাবারের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি সামগ্রিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রতিটি ২ লাখ টাকা দামের ১০টি স্বাস্থ্যবান ষাঁড় কেনার প্রস্তাব দিয়েছেন। সে হিসাবে গরু কেনার পেছনে মোট ব্যয় হবে ২০ লাখ টাকা।
বিজ্ঞাপন
মামুনের মতে, বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীরা চাইলে বার্ষিক ভোজ উপলক্ষে গরু উপহার দিতে পারেন। এতে বারের নিজস্ব তহবিল থেকে মাংস কেনার ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে।
আবেদনে হিন্দু ধর্মাবলম্বী আইনজীবীদের জন্য পৃথক জোনে খাসির মাংস পরিবেশনের প্রস্তাব দিয়ে বলা হয়েছে, ধর্মীয় ও খাদ্যাভ্যাসগত পছন্দ বিবেচনায় নিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করা উচিত। একই সঙ্গে বৈষ্ণব রীতির অনুসারী ও অন্যান্য নিরামিষভোজী আইনজীবীদের জন্য সীমিত পরিসরে হলেও মানসম্মত নিরামিষ খাবারের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আবেদনকারী তার প্রস্তাবের পক্ষে বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ধর্মীয় ও খাদ্যাভ্যাসগত পছন্দের প্রতি সম্মান রেখে পৃথক ব্যবস্থাপনায় খাবার পরিবেশন করা হলে সদস্যদের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হবে।
আবেদনের শেষাংশে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ভোজ বা ব্রেকআপ পার্টিতে খাবারের ধরন ও ব্যবস্থাপনা পুনর্বিবেচনা করে মুসলিম আইনজীবীদের জন্য গরুর মাংস, হিন্দু আইনজীবীদের জন্য খাসির মাংস এবং নিরামিষভোজীদের জন্য পৃথক খাবারের ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।
এফএইচ/ইএ
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
