আজকাল ওয়েবডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশে ভারত-চিন সীমান্তের একাধিক জায়গায় দুই দেশের সেনার মধ্যে মুখোমুখি উত্তেজনার পরিস্থিতি এখনও অব্যাহত। ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশের বাৎসরিক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে এমনই মন্তব্য শত্রুজিৎ সিং কাপুরের। চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র সামরিক আধুনিকীকরণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, প্রচলিত পদ্ধতিতে চিনের মোকাবিলা করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডো বাহিনীর ভূমিকার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
ITBP প্রধানের বক্তব্য, "চিনের সামরিক বাহিনী আধুনিকীকরণের জন্য বিপুল বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে তাদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তাই সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন কৌশল গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।"
সীমান্ত নিরাপত্তায় ড্রোনের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথা তুলে ধরে শত্রুজিৎ সিং কাপুর বলেন, "এই প্রযুক্তি তুলনামূলক ছোট বাহিনী বা ছোট দেশকেও বড় সামরিক শক্তির মোকাবিলা করার সুযোগ করে দিতে পারে।" ফলে সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ড্রোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।
অরুণাচল প্রদেশে সাম্প্রতিক মুখোমুখি পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে ITBP-র শৌর্য কমান্ডো দলগুলির কাজের প্রশংসা করেছেন বাহিনীর ডিজি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই পরিস্থিতিতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডো দলগুলি ভাল কাজ করেছে। সীমান্তে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই উদ্যোগকে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
ITBP-র ইতিহাস ও দায়িত্বের প্রসঙ্গেও বক্তব্য রেখেছেন শত্রুজিৎ সিং কাপুর। তাঁর কথায়, "বাহিনীটির সূচনা হয়েছিল মাউন্টেন গেরিলা ফোর্স হিসেবে। পরে সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে তার দায়িত্ব বিস্তৃত হয়।" ২০০৪ সাল থেকে চিন সীমান্তের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি বাহিনীর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ও বিশেষ দক্ষতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দিয়েছেন তিনি। সীমান্তে পরিবর্তিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর প্রস্তুতি এবং বাহিনীর নিজস্ব দক্ষতা ধরে রাখাকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ITBP প্রধান।
