সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক মেলা থেকে ২২ দিনে প্রায় ৫ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ এবং চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে কার্যকর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।
সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক।
মেলার ঐতিহ্যকে সামনে রেখে চাঁদাবাজি চলতে থাকলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সাতক্ষীরায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন এই সংসদ সদস্য।
গুড়পুকুরের মেলায় অর্থ আদায়, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং সরকারি রাজস্বের হিসাব নিয়ে এর আগে এনপিবি নিউজে দুই পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনগুলোতে মেলা থেকে কোটি কোটি টাকা আদায়, পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের রাজস্ব না পাওয়া এবং আয়-ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে আসে। এবার মেলাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেন সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত কার্যালয়ের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আব্দুল খালেক বলেন, লুটতরাজ, হত্যা, আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন ধরনের আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দিক থেকে চরম চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে তিনি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, এই ঐতিহ্যকে সামনে রেখে এখানেও আমরা বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে জানতে পেরেছি চরমভাবে এখানে চাঁদাবাজি হচ্ছে। এটাকেও আমরা নিন্দা জানাই, এটাকে আমরা ধিক্কার জানাই, এর বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ জানাই।
তিনি আরও বলেন, জনগণের দাবি ও দুর্ভোগকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। সাতক্ষীরার যানজট, বিদ্যুৎ ও পানিসংকটের মতো জনদুর্ভোগের পাশাপাশি কালোবাজারি, লুটতরাজ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান প্রয়োজন।
সাতক্ষীরায় মদ ও মাদকের বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জনজীবনে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
এদিকে, গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া সাতক্ষীরার প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরের মেলাকে ঘিরে ২২ দিনে প্রায় ৫ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। তবে বিপুল অঙ্কের এই অর্থের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ হিসাব এখনো সামনে আসেনি। সাতক্ষীরা পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন মেলা থেকে রাজস্ব না পাওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে, মেলা পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু অর্থ আদায় ও ব্যয়ের বিষয়ে তার কাছে সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই বলে জানিয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে মেলাকে ঘিরে আদায় করা বিপুল অঙ্কের অর্থের হিসাব কোথায়, কারা অর্থ আদায় ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করছেন এবং শেষ পর্যন্ত এই অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মেলার আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং অর্থ আদায় ও লেনদেনের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠছে।
