কালবেলা · general
সুইসাইড নোট লিখে জাবি শিক্ষার্থী নিখোঁজ, অভিযুক্ত শিক্ষক নিজেই তদন্ত কমিটিতে!
১২/১০/২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী কাজী মোহাইমিনুল ইসলাম শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সুইসাইড নোট লিখে নিখোঁজ হয়েছেন।
ঘটনাটি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। তবে কমিটিতে অভিযোগের মুখে থাকা ওই শিক্ষককেই সদস্য করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর এক সহপাঠী জানান, মোহাইমিনুল দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ পরীক্ষা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছিলেন। এ বিষয়ে বিভাগের বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. হুসাইন মো. সায়েম তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। তবে আবেদন প্রক্রিয়ায় নানা জটিলতায় তাকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
ওই সহপাঠী বলেন, প্রথমবার রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করার পর সেটি হারিয়ে যায়। পরে তাকে নতুন করে আবেদন করতে হয় এবং নিজে গিয়ে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে গত সপ্তাহে রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে বিশেষ পরীক্ষা নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরও ওই অনুমোদনে ছিল।
তবে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) বিভাগের সভাপতি তাদের জানান, সামনে ছুটি থাকায় নতুন করে পরীক্ষা আয়োজনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সময়সাপেক্ষ হবে। ফলে আপাতত বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়; পরবর্তী ব্যাচের সঙ্গে পরীক্ষা দিতে হতে পারে। এতে মোহাইমিনুলের চলমান মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে বলে জানান তার সহপাঠী।
তিনি বলেন, মোহাইমিনুল পুরো বছর সহপাঠীদের সঙ্গে মাস্টার্সের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। পরীক্ষার ঠিক আগে বিশেষ পরীক্ষা দিতে না পারার বিষয়টি জানার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপর দুপুরে সুইসাইড নোট লিখে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন সহপাঠীরা।
সুইসাইড নোটে মোহাইমিনুল লিখেন, ‘এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আমার হাতে অন্য কোনো অপশন নাই শুধু মৃত্যু ছাড়া। কারণ তারা আমাকে এই দিকে ঠেলে দিয়েছে। ক্যাম্পাসে বাবা-মার অবর্তমানে রানিং স্টুন্ডেটেদের শ্রেষ্ঠ অভিভাবক হলো শিক্ষক। কিন্তু যারা নিজেরাই ভালো বাবা-মা হতে পারে নাই তারা আবার শিক্ষক। ৬ মাস নাটক করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে আমাকে। আমি কোনো নাটক/সিনেমা করছি না। আমার মরদেহ পেলে টুকরা টুকরা করে তাদেরকে ইকুয়ালি ভাগ করে দিও প্রিয় ক্লাসমেটরা। আমার কিছু ঋণ আছে তা আরেকটা কাগজে লিখা আছে। আবার ঋণের থেকে বেশি টাকা আমি পাই বিভিন্ন জায়গায়।’
তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সভাপতি হিসেবে গাণিতিক ও পদার্থবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুব কবির, সদস্য হিসেবে সহকারী প্রক্টর আল আমিন ও কমিটির সদস্য সচিব প্রক্টর অফিসের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সোহেল রানা। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই, ওই শিক্ষার্থীর পরীক্ষার বিষয়টি আমরা দেখব। আপাতত তাকে খুঁজে বের করার ব্যাপারে সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি আমরা। আর তদন্ত কমিটির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। যেভাবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্ভব সেটাই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗