সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যুক্তরাষ্ট্রে হয়রানি, হেনস্তা, অনলাইনে অপপ্রচার এবং পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর সরকারের ১২ জন সাবেক উপদেষ্টা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এসব ঘটনার কঠোর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার ও ব্যক্তিগত হুমকি দিয়ে জুলাইয়ের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যাবে না।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে হুইলচেয়ারে করে বের হওয়ার সময় অধ্যাপক ইউনূসকে হেনস্তা করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর দিকে এগিয়ে গিয়ে উচ্চ স্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’সহ বিভিন্ন অপবাদসূচক কথা বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রবাসী সমর্থকের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা বলেন, ‘সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে অব্যাহত হয়রানি, অনলাইনে অপপ্রচার এবং পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনায় আমরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছি ও কঠোরতম নিন্দা জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে তাঁরা বাংলাদেশের অতীত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বছরের পর বছর লাগামহীন অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পতন, দুর্নীতি, পদ্ধতিগত দমন-পীড়ন এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনে দেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে দেশ পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে।
সাবেক উপদেষ্টাদের ভাষ্য, ওই সরকার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিয়মিত সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটিয়েছিল।
বিবৃতিতে তাঁরা আরো বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, এরপর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাবে।
কিন্তু গভীর অনুতাপের সঙ্গে তাঁরা লক্ষ করছেন, কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও স্বার্থান্বেষী মহল নিয়মিতভাবে অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার ও ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার হুমকি দিচ্ছে। তাঁদের মতে, এসব কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।
সাবেক উপদেষ্টারা বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীনভাবে বলেন, ‘যতই ভয় দেখানো হোক, মিথ্যাচার, অনলাইনে হয়রানি বা ব্যক্তিগত হুমকি দেওয়া হোক, তাতে জুলাই প্রতিশ্রুতির পরিবর্তনগুলোর প্রতি আমাদের সংকল্প একটুও টলবে না।’
তাঁরা আরো বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সংস্কার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার যে ঐতিহাসিক জনসমর্থন অর্জিত হয়েছে, ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের বিদ্বেষপূর্ণ অপপ্রচার এবং অপচেষ্টায় তা মুছে ফেলা সম্ভব হবে না।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী সাবেক ১২ উপদেষ্টা হলেন সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সি আর আবরার, আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক-ই-আজম, ফরিদা আখতার, শারমীন এস মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
সানা/আপ্র/১৪/১০/২০২৬
