একটি নদীই যেন দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে দূরত্ব। কোথাও খেয়া নৌকায়, কোথাও শুষ্ক মৌসুমে হেঁটে নদী পার হতে হয় তাঁদের। শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য—প্রতিদিনের প্রয়োজন মেটাতে এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী ও পাশের সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ। এবার সেই দুর্ভোগ লাঘবের আশায় যমুনার শাখা নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে ২৭৮ দশমিক ৩০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার সাতপোয়া ইউনিয়নের ঘোড়ামারা চর এলাকায় সেতুটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জামালপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম।
সেতুটি নির্মিত হলে দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীদের নদী পারাপারের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসতে পারে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। আরামনগর জিসি-ঘোড়ামারা বাজার সড়কের ১ হাজার ৫২০ মিটার চেইনেজে যমুনার শাখা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার ৮৫২ টাকা। নির্মাণকাজের দায়িত্ব পেয়েছে জামালপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষকে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে দুই উপজেলার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গতি আসবে।
তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রমজান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানা এবং এলজিইডির প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তমাল। এ সময় পোগলদিঘা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ ফকিরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-সংকট কাটাতে সেতু নির্মাণের এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশা, নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ হলে নদী পারাপারের ভোগান্তি কমবে, সহজ হবে শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা গ্রহণ এবং বাড়বে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ।
