বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় নিজস্ব অর্থায়নে একটি মসজিদ নির্মাণ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পরিচালনার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অসহায় মানুষের সহায়তায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) চরপাড়া বাজারসংলগ্ন নানার বাড়ির এলাকায় চারতলা ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মাণাধীন এই মসজিদটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ড. মো. আহসান হাবিব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতিসংঘের পারমাণবিক যুদ্ধের প্রভাব নিরূপণবিষয়ক বৈজ্ঞানিক প্যানেলের একজন প্যানেল সদস্য। সোনাতলা উপজেলার চরপাড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় প্রায় ১০ শতক জমি কিনে তিনি এই মসজিদটি নির্মাণ করছেন। কেনা জমিটির বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে মসজিদটির নির্মাণকাজে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং কাজ এখনো চলমান রয়েছে।
বিশেষ বিষয় হলো, মসজিদটি নির্মাণে বাইরে থেকে কোনো ধরনের অনুদান গ্রহণ না করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি সতর্কতামূলক সাইনবোর্ডও টাঙানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আহসান হাবিব জানান, নির্মাণকাজের শুরুর দিকে মসজিদ নির্মাণের নাম করে কিছু অসাধু ব্যক্তি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলে আত্মসাৎ করেছিলেন। এ ধরনের প্রতারণা ও অনুদান সংগ্রহের নামে অপব্যবহার রোধ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি মূলত নিজের অর্থায়নেই এর পুরো ব্যয় বহন করছেন, তবে কেবল বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে সামান্য কিছু (৭৫ হাজার টাকা) সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে।
শুধু এই মসজিদটিই নয়, ২০০১ সাল থেকেই তিনি নিজ অর্থায়নে বিভিন্ন মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে আসছেন। এছাড়া ১৯৯৭ সালে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতের বাইগুনি গ্রামে নিজের দাদার জমির ওপর একটি মক্তব-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন এবং তখন থেকেই সেটি পরিচালনা করে আসছেন, যার মাধ্যমে এলাকার শিশুরা নিয়মিত ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। ধর্মীয় কাজের পাশাপাশি প্রতি ঈদে এলাকার দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন এই শিক্ষক।
নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ নির্মাণ, মক্তব পরিচালনা এবং মানবিক কাজের এমন প্রসংশনীয় উদ্যোগে এলাকায় তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়েছে একজন দানশীল ও জনহিতৈষী ব্যক্তি হিসেবে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নির্মাণকাজ শেষ হলে এই মসজিদটি স্থানীয় মুসল্লিদের নিয়মিত ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক কার্যক্রমের একটি কেন্দ্র হয়ে উঠবে।
আজকালের খবর/কাওছার আল হাবীব
