কালবেলা · আন্তর্জাতিক
মার্কিন কর্মকর্তাদের হত্যার চেষ্টা চালাচ্ছে ইরান, গোয়েন্দাদের সতর্কবার্তা
২৪/১০/২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মার্কিন নাগরিক ও কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ইরান। শুক্রবার এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান জে ক্লেটন। তার দাবি, মার্কিন নাগরিকদের হত্যার পরিকল্পনা কিছু ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর অ্যাক্সিওসের।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে ক্লেটন বলেন, ‘আমরা এমন গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছি, যাতে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা ইরান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।’
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যসহ আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইরানিদের প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও যেন পররাষ্ট্র দপ্তরের আরও বেশি কর্মকর্তার সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নিতে পারেন, সে জন্য স্মারকলিপির তথ্যের যতটা সম্ভব গোপনীয়তা কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন ক্লেটন।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও আরও কয়েকটি দেশে মার্কিন নাগরিকদের জন্য হুমকির মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মার্কিন সংস্থাগুলো মূল্যায়ন করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের নিয়মিত এ বিষয়ে অবহিত করা হচ্ছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, গত তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্লেষকেরা রাষ্ট্রদূতসহ মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হুমকিসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য পরীক্ষা করছেন।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ইরানের সক্রিয় সদস্য থাকতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন স্থাপনাও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় থাকতে পারে। তবে আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, বিদেশে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে তেহরানের সক্ষমতা সীমিত এবং দেশটির উচ্চাকাঙ্ক্ষা তার বাস্তব সক্ষমতার চেয়ে বেশি।
চলতি মাসের শুরুতে ইরানের একটি হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাজ্যের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মোতায়েন মার্কিন বিমানবাহিনীর বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন দূতাবাসগুলোর কর্মী কমানোর ঘোষণার পরপরই এ স্মারকলিপির তথ্য সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জর্ডান, লেবানন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসে কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এপিকে তিন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান এবং ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হুমকির সঙ্গে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল ওয়াশিংটন। হুতিদের হামলা বেড়ে যাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
চলতি মাসে সৌদি আরব প্রায় প্রতিদিনই ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটির হামলার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাও রয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র : অ্যাক্সিওস
মূল প্রতিবেদনে যান ↗