Published on
:
2 min read
শুভ্রজিৎ বসু
প্রবাসের মাটিতে বাঙালির ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরম্পরাকে ধরে রাখার প্রয়াসে ছয় বছরে পা দিল সুইৎজ়ারল্যান্ডের লোজ়ানের বাঙালি সংগঠন ‘প্রাঙ্গণ’-এর দুর্গাপুজো। পুজোর আচার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সিঁদুরখেলা, সব মিলিয়ে এই পুজো প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে ভারতীয়দের মিলনক্ষেত্রে।
পুজোর প্রতিটি পর্বে ঐতিহ্য ও নিষ্ঠার উপরে বিশেষ গুরুত্ব দেন উদ্যোক্তারা। পুরোহিত আসেন ভারত থেকেই। নির্দিষ্ট নির্ঘণ্ট মেনেই হয় সন্ধিপুজো। চালকুমড়ো বলি, কুমারী পুজো, নবমীর হোম, ১০৮টি পদ্মফুল, বেলপাতার মালা, সবই থাকে বিদেশের এই পুজোতে। আসলে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে প্রথাগত কোনও রীতি-আচার বাদ থাকে না। পুজোর জন্য পদ্মফুল ও বেলপাতার মালা ভারত থেকে নিয়ে আসার ব্যবস্থাও করা হয়।
এ পুজোর অন্যতম আকর্ষণ নবপত্রিকা স্নান। লোজ়ানের হ্রদের তীরে ঢাকের বাদ্যি, শাঁখের ধ্বনিতে এ এক অন্য আবহ। থাকে ভোগের ব্যবস্থা। শুধু বাঙালিরাই নন, আসেন বহু বিদেশিও। তাঁরাও প্রসাদ খান মায়ের। প্রতিদিন প্রাঙ্গণের মহিলারা নিজেদের হাতে রান্না করে মা দুর্গাকে ভোগ নিবেদন করেন। শুধু দেবীর ভোগই নয়, আগত অতিথিদের জন্য প্রতিদিন দুপুর ও রাতের খাবারেরও ব্যবস্থা থাকে।
চলছে প্রদীপ জ্বালানো।
কলকাতার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির স্বাদ ফিরিয়ে আনতে থাকে কলকাতার কড়াপাকের সন্দেশ এবং হাতে তৈরি নারকেল নাড়ু। প্রবাসের মাটিতে ঘরোয়া রান্না ও বাঙালির চির পরিচিত স্বাদের এই আয়োজন উৎসবে যোগ করে এক বিশেষ মাত্রা। পাত পেড়ে খাওয়া তো আছেই। সঙ্গে নানা মুখরোচক খাবারের স্টলও থাকে।
কলকাতার স্ট্রিট ফুডের স্টল বসে বিলেতের বুকেও। একেবারে চেনা স্বাদের ফুচকা, আলু-কাবলি, চাট সব কিছু থাকে। সঙ্গে নানা রকমের মিষ্টি। চেনা স্বাদে বুঁদ হয় বাঙালি। পুজোয় শুধু সুইৎজ়ারল্যান্ডের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষই নন, ফ্রান্স, জার্মানি থেকেও বহু মানুষ আসেন। বিশেষ করে দশমীর সিঁদুরখেলায় অংশ নেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা প্রবাসী মহিলারাও। ভৌগোলিক দূরত্ব ও ভাষাগত বৈচিত্র্য পেরিয়ে সিঁদুরখেলা তাঁদের কাছে হয়ে ওঠে মিলন, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক বিশেষ উপলক্ষ। প্রাঙ্গণের দুর্গোৎসবে জেনেভায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিরাও আসেন।
আনন্দের মুহূর্ত।
সব মিলিয়ে পুজোর কয়েকটা দিন এ এক অন্য যাপন বিদেশের বুকে। হতে পারে বিদেশ বিভুঁই, সেখানেই শিকড় খোঁজে প্রবাসী বাঙালির দল।