ঢাকা, ১৩ অক্টোবর – দেশজুড়ে নীরব ঘাতক হয়ে দাঁড়িয়েছে হাম। ক্রমেই আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে এই ছোঁয়াচে রোগের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৬ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছর দেশে নিশ্চিত হামে ১০৪ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৬৬ জনসহ মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ১৭০ জনে!
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এই শিউরে ওঠার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, টিকাদান কর্মসূচি ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কেন নিয়ন্ত্রণে আসছে না হামের এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব?
গত ২৪ ঘণ্টার চিত্র: হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড়
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় শুধুমাত্র ঢাকা বিভাগেই হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১,২১৩ জন আক্রান্ত রোগী।
বিভাগভিত্তিক রোগী ভর্তির পরিসংখ্যান:
- ঢাকা: ৩৫৮ জন
- চট্টগ্রাম: ৩১৩ জন
- সিলেট: ১৪২ জন
- খুলনা: ১৩৫ জন
- বরিশাল: ১৩২ জন
- ময়মনসিংহ: ৭২ জন
- রাজশাহী: ৩৭ জন
- রংপুর: ২৪ জন
কেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে হাম?
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৯ জন রোগী। আর সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২ লাখ ৭ হাজার ৩৭১ জন—যার মধ্যে ২২,৭১২ জনের দেহে নিশ্চিতভাবে মিলছে হামের উপস্থিতি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় প্রাদুর্ভাবের পেছনে ৩টি মূল কারণ কাজ করছে:
টিকা গ্রহণে অনীহা ও গ্যাপ (Immunity Gap):
কোভিড-পরবর্তী সময়ে রুটিন টিকাদান বা ইপিআই (EPI) কর্মসূচিতে সাময়িক স্থবিরতা এবং গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় নিয়মিত টিকা না পাওয়ার কারণে শিশুমনে বড় ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
লক্ষণ চিনতে দেরি ও দেরিতে হাসপাতালে আসা:
হামকে সাধারণ জ্বর বা এলার্জি ভেবে অনেকেই শুরুতে ঘরোয়া চিকিৎসা দেন। ফলে শিশু পুষ্টিহীনতা, নিউমোনিয়া বা ব্রেন ইনফেকশনের (মস্তিষ্কের প্রদাহ) মতো জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার পরই কেবল হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
অতিরিক্ত ছোঁয়াচে প্রবৃত্তি ও ঘনবসতি:
হামের ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়ায়। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও ফ্ল্যাটবাড়িতে একজন আক্রান্ত হলে দ্রুত তা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।
“হাম সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। কেবল সময়মতো টিকা দেওয়া এবং প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পারলে এই মৃত্যুমিছিল ঠেকানো সম্ভব।”— জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
সাধারণ মানুষের করণীয় ও প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে টিকাদান জোরদার করার পাশাপাশি সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অবিলম্বে প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে বিশেষ হাম প্রতিষেধক ক্যাম্পেইন (Measles Outbreak Response) শুরু করা দরকার।
অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ:
৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে শিশুকে হামের নির্ধারিত টিকা (MR Vaccine) অবশ্যই দিন।
শিশুর তীব্র জ্বর, গায়ে লালচে দানা বা র্যাশ, চোখ লাল হওয়া, কাশি ও সর্দি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান।
এনএন/ ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সম্পুর্ন খবরটি পড়ার জন্য এই লিঙ্কে ক্লিক করুন ::দেশে হামের মারাত্মক তাণ্ডব! ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ প্রাণহানি, মোট মৃত্যু ১,১৭০ ছাড়াল first appeared on DesheBideshe.