ওয়াশিংটন, ২২ অক্টোবর-ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গণহত্যা এখনো চলছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ডেলিয়া রামিরেজ। তাঁর দাবি, বোমা হামলা কিংবা অনাহারের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো সহিংসতা বন্ধ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতেও মার্কিন করদাতাদের অর্থ ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রামিরেজ বলেন, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) গাজায় তহবিলের সংকটের কারণে তাদের কার্যক্রমে বড় ধরনের কাটছাঁটের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে প্রায় পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনির মানবিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নিজের পোস্টে রামিরেজ বলেন, বোমা হামলা হোক কিংবা অনাহারের মাধ্যমে—গণহত্যা শেষ হয়নি। এটি বন্ধ করতে হবে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজের উত্থাপিত ‘ব্লক দ্য বম্বস অ্যাক্ট’ পাস করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ
২০২৫ সালের জুনে ডেলিয়া রামিরেজসহ যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একদল সদস্য ‘ব্লক দ্য বম্বস অ্যাক্ট’ নামের একটি প্রস্তাবিত আইন উত্থাপন করেন। এ আইনের উদ্দেশ্য হলো, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হলে ইসরায়েলে কিছু আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ রাখা।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা এসব অস্ত্র মার্কিন ও আন্তর্জাতিক আইন মেনে ব্যবহার করা হচ্ছে—এ বিষয়ে ইসরায়েলকে নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অনুমোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রস্তাবে। তবে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আয়রন ডোমের মতো প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এ প্রস্তাবের বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না।
রামিরেজের মতে, মার্কিন অস্ত্রের সরবরাহ সীমিত করা গেলে গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা এবং মানবিক বিপর্যয় কমাতে ভূমিকা রাখা সম্ভব। এ কারণে আইনটি পাস করার জন্য কংগ্রেসের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গাজায় খাদ্য ও জরুরি সহায়তার ঘাটতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ডব্লিউএফপির কার্যক্রমে অর্থায়নের সংকট দেখা দিলে খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বিপুলসংখ্যক মানুষের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এস এম/ ২২ অক্টোবর ২০২৬
