রিজোনার বুলহেড সিটিতে আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
-->সরকারি বা গোপনীয় তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশকারীদের (লিঙ্কার) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলতে গিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, এ ধরনের তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) আসন্ন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে অ্যারিজোনার বুলহেড সিটিতে আয়োজিত এক নির্বাচনী প্রচারণায় সমর্থকদের উদ্দেশে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
জনসভায় ট্রাম্প বলেন, 'আমার মতে, যারা তথ্য ফাঁস করে, তাদের গুলি করা উচিত। অতীতে আমরা তথ্য ফাঁসকারীদের গুলি করতাম-বিশেষ করে যখন তারা কোনো দেশে আক্রমণের সুনির্দিষ্ট সময় প্রকাশ করে দিত।'
আরও পড়ুন
ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি ছিল ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গে, যার অধীনে ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানে আকস্মিক হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) একটি অপ্রকাশিত রিপোর্টের তথ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিএনএনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে চলে আসে।
প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, মার্কিন হামলার আগেই ইরান তাদের সংবর্ধিত ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিল এবং পারমাণবিক অবকাঠামোর ক্ষতি ট্রাম্পের দাবির চেয়ে বেশ কম ছিল।
সংবাদমাধ্যমের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এ ধরনের ফাঁসের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে। তিনি বলেন, 'তারা আমাদের রওয়ানা ও পৌঁছানোর সময় ফাঁস করে দিয়েছিল। ফলে আমাকে দুই দিন পর মূল বোমাবর্ষণ অভিযান পুনর্নির্ধারণ করতে হয়েছিল। কোনো এক নর্দমার কীট এই তথ্য ফাঁস করেছে। তাদের হয় আজীবন জেলে থাকা উচিত, নয়তো গুলি করে মারা উচিত।'
নিজের প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্য গণমাধ্যমে চলে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ। এর আগে এসব তথ্য ফাঁসের জন্য ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করে তাদের বিচারের দাবিও জানিয়েছিলেন তিনি।
বর্তমানে তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজে বের করতে ট্রাম্প প্রশাসন ও হোয়াইট হাউস অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও বেশ কিছু সামরিক কর্মকর্তাকে লাই সত্যতা যাচাই পরীক্ষা বা পলিগ্রাফ টেস্টের মুখোমুখি করা হয়েছে। এছাড়া নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিকদের ওপর সমন জারি করা হয়েছে।
তবে গণমাধ্যমের ওপর কঠোর এই বিধিনিষেধ ও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
আজহার/
