নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী খারনৈ ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের পাঁচ মাস বয়সী শিশু মাহিরা রহমান জন্মগত জটিল হৃদ্রোগে আক্রান্ত। তাকে বাঁচাতে দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু অর্থসংকটে মেয়ের চিকিৎসা করাতে হিমশিম খাচ্ছেন বাবা মো. মজিবুর রহমান ও মা রোজিনা আক্তার।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাহিরার জন্মের পর থেকেই তার শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা হয়ে আসছিল। উদ্বিগ্ন বাবা-মা তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) টানা ১০ দিন চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে ইকোকার্ডিওগ্রাফি পরীক্ষায় তার হৃদ্যন্ত্রে জটিল জন্মগত ত্রুটি ধরা পড়ে।
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাহিরা ‘ডাবল ইনলেট লেফট ভেন্ট্রিকল’ বা সিঙ্গেল ভেন্ট্রিকল সমস্যায় আক্রান্ত। তার হৃদ্যন্ত্রে বড় ছিদ্র রয়েছে এবং ডান ভেন্ট্রিকলও অপর্যাপ্তভাবে গঠিত। ফলে হৃদ্যন্ত্র থেকে ফুসফুসে অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহের কারণে তার শারীরিক অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মাহিরার বাবা মজিবুর রহমান মেয়ের চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করেছেন। বর্তমানে সে শিশু হৃদ্রোগ বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. নুরুন নাহার ফাতেমা ও ডা. ইলিয়াস পাটোয়ারীর তত্ত্বাবধানে রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, মাহিরার হৃদ্রোগের চিকিৎসায় ধাপে ধাপে তিনটি জটিল অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হতে পারে। প্রথম ধাপে ‘পালমোনারি আর্টারি (পিএ) ব্যান্ডিং’ করার কথা বলা হয়েছে। পরিবার জানায়, চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে, মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়েছেন মজিবুর রহমান। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে লজিস্টিক কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করেন। তাঁর মাসিক আয় প্রায় ২২ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে নিজের সঞ্চয়, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের সহায়তায় মেয়ের চিকিৎসায় প্রায় পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রায় দেড় লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত বলেও জানিয়েছেন।
পরিবারের দাবি, গ্রামের বাড়িতে বিক্রি করে চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করার মতো জমিজমাও অবশিষ্ট নেই। ফলে মেয়েকে ভারতে নিয়ে চিকিৎসা করানোর প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করা তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় শিশু মাহিরার চিকিৎসায় সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের সহায়তা চেয়েছে পরিবারটি। তাঁদের আশা, সবার সহযোগিতা পেলে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এবং সে সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
মাহিরার চিকিৎসায় সহায়তা করতে চাইলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার কাগজপত্র ও অর্থসহায়তার তথ্য যাচাই করে নেওয়ার অনুরোধ রইল।
The post কলমাকান্দার অসহায় বাবার আকুতি – আমার মেয়ে মাহিরাকে বাঁচান appeared first on ভোরের চেতনা.
