সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় প্রবাসীর স্ত্রীকে উত্তক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি কর্মীর পরিচয় দেওয়া মালিক মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ওই গৃহবধূর নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় আইনের দ্বারস্থ হওয়ায় তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। ফলে চরম নিরাপত্তাহীন ভুক্তভোগী গৃহবধূ এখন বাড়িছাড়া। এছাড়া তার স্বামীর বড় ভাইও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলায় সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ রিফাতপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর স্বামী প্রবাসে থাকেন। তার চাচাতো ভাসুর একই পাড়ার গুলফর মিয়ার ছেলে বিএনপি কর্মী মালিক মিয়া প্রায়ই তাকে কুপ্রস্তাব দেওয়াসহ নানাভাবে উত্তক্ত করতো। এই ঘটনায় নিরুপায় হয়ে গৃহবধূ বাদী হয়ে ১ সেপ্টেম্বর মালিককে আসামি করে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে শিল্পাঞ্চল পুলিশের কাছে তদন্তাধীন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলা তুলে নিতে গৃহবধূ ও তার ভাসুরকে হুমকি এবং চাপ দেওয়া হচ্ছে। অব্যাহত হুমকিতে নিরাপত্তার অভাবে গৃহবধূর ৬বছরের পুত্র সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে ওসমানীনগরের পিত্রালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। ছেলেটি স্কুলে যেতে পারছে না। তার লেখাপড়াও বন্ধ রয়েছে। প্রাণ ভয়ে গৃহবধূর ভাসুর ঘরবন্দি অবস্থান আছেন। কুপ্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় বিগতদিনে রাতের বেলা প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরের চালে ও দরজায় ঢিল ছুঁড়তো বখাটে মালিক। একরাতে ঘরে ঢুকে তার মোবাইল চুরি করে অভিযুক্ত। থানায় জিডি করতে গেলে কৌশলে মোবাইলটি ফেরৎ দেয়। পরে আবার ঘরে ঢুকে তার হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে সে। এসময় বাড়ির লোকজনের বাধার মুখে মোবাইল ফেলে উলঙ্গ অবস্থায় দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।
গত ২৪ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে বাজারে যাওয়ার জন্য বাড়ির সামনের রাস্তায় বের হলে মালিক তাকে টানা হেঁচড়া ও শ্লীলতাহানী করে এবং সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এর আগে গত ১৯ মার্চ মালিক তাদের উঠানে গিয়ে তাকে প্রকাশ্য কুপ্রস্তাব দিয়ে অশ্লীল কথা বলে। সে সময় তার ভাসুর প্রতিবাদ করায় রড় দিয়ে তার শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করে মালেক। পায়ে গুরুতর জখম হওয়ায় দুইদিন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি।
এই ঘটনায় গৃহবধূ বাদী হয়ে গত ২০মার্চ মালিকের নামে বালাগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দেন। কিন্তু কতিপয় প্রভাবশালী নেতাদের চাপে পুলিশ মামলা না নেওয়ায় গ্রামের লোকজন সালিস করেন। সালিসের সিদ্ধান্তে ভবিষ্যতে এধরণের কর্মকান্ড না করতে ৩০ মার্চ স্টাম্পে মালিকের অঙ্গীকার নেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও তার অত্যাচার থেকে রেহাই পাননি ওই গৃহবধূ।
স্থানীয়রা জানান, মালিক বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার (সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী) কর্মী হলেও নিজেকে নিতা হিসেবে দাবি করেন। সে খুবই বখাটে, নেশাখোর। নারীদের উত্তক্ত করা, চুরি ও খারাপ মানুষের সাথে তার উঠাবসা। সে বলে বেড়ায়, তার হাত নাকি অনেক লম্বা। সে সিলেট ৩ আসনের এমপি এমএ মালেকের লোক। থানা পুলিশ বা মামলা দিয়ে তাকে কিছুই করা যাবেনা।
গৃহবধূর পরিবার অভিযোগ করে বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের কথিত নেতাদের আশ্রয়ে মালিক এসব অপকর্ম করছে। এজন্য থানা পুলিশ আমাদের মামলা নেয়নি। কোর্টে মামলা করায় সে তার লোকজন নিয়ে আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মালিক মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দম্ভোক্তি করে বলেন, ‘আমার নামে আগেও অনেক মামলা হয়েছে। কিছুই হয়নি। আমি বিএনপি করি। এখন দল ক্ষমতায়। এমপি মালেক ভাইকে সাথে নিয়ে জামিন নিয়ে আসবো।’
বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
