ভারতের বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। পুলিশের সূত্রের দাবি, তারা লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি চক্রের সদস্য। এই চক্র থেকেই অভিনেতার গাড়িতে গুলি চালানো ব্যক্তিদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতার চারজন হলেন কুনাল, সুমিত, রাধা ও বাবিতা। তাদের বয়স ১৯ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে। কুনাল ও সুমিত হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা। অন্যদিকে রাধা ও বাবিতার বাড়ি উত্তর প্রদেশে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সম্প্রতি অন্য একটি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়া কুনালের সঙ্গে অভিনেতার ওপর হামলার দায় স্বীকার করা অনিল পণ্ডিতের যোগাযোগ ছিল। যুক্তরাষ্ট্র থেকে গ্যাংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে পণ্ডিতের। একটি অডিও বার্তায় তিনি হামলার দায় স্বীকার করেন।
পুলিশের সূত্র জানায়, কুনালের নির্দেশে রাধা ও বাবিতা হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র মুম্বাইয়ে নিয়ে যান। পরে তা হামলাকারীদের কাছে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল গ্রেফতার চারজনকে মুম্বাই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর হরিয়ানার হারসানা গ্রামের এক বন্ধুর মাধ্যমে অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে যোগাযোগ হয় কুনালের। পরে একটি এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে তাদের কথাবার্তা চলতে থাকে।
পণ্ডিতের নির্দেশে কুনাল অমৃতসর থেকে একটি পিস্তল ও ২০টি কার্তুজ সংগ্রহ করেন। প্রায় দুই মাস আগে রাধার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে রাধাকে জানিয়ে অস্ত্রটি মুম্বাইয়ে নিয়ে যেতে রাজি করান তিনি।
গুলিবর্ষণের তিন দিন আগে, ১৫ অক্টোবর, কুনাল রাধা ও বাবিতাকে নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দেন। সেখান থেকে ট্রেনে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে রওনা হন দুই নারী। রাধার ব্যাগে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল পিস্তলটি। যাত্রাপথে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন কুনাল। এ সময় অনিল পণ্ডিতের নির্দেশনাও তাদের কাছে পৌঁছে দেন তিনি বলে অভিযোগ।
১৭ অক্টোবর হামলার এক দিন আগে মুম্বাইয়ের দাদর স্টেশনে পৌঁছান রাধা ও বাবিতা। পরে তারা একটি হোটেলে ওঠেন। সকাল ১১টার দিকে এক কিশোর হোটেলের কাছে এসে রাধার কাছ থেকে ব্যাগটি সংগ্রহ করে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পরদিন ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টার দিকে হৃতিক, রেহান ও ফুল সিং নামে তিনজন টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালান।
গুলিবর্ষণের ঘটনার পর অনিল পণ্ডিত কুনালকে জানান, হামলাকারীরা মুম্বাইয়ে আটকা পড়েছেন। তাদের শহর থেকে বের করে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে কুনালকে নির্দেশ দেন।
একই দিন রাধা ও বাবিতা দাদর থেকে হরিদ্বার এক্সপ্রেসে চড়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন। ২০ অক্টোবর নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশনে তাদের আটক করে পুলিশ। অন্যদিকে হরিয়ানার সোনিপত থেকে গ্রেফতার করা হয় কুনাল ও সুমিতকে।
এ ছাড়া পালানোর চেষ্টার সময় রাজস্থানের কোটা থেকে একটি ট্রেনে হৃতিক, রেহান ও ফুল সিংকে গ্রেফতার করা হয়।
এই চারজনকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র সরবরাহের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চলছে।