

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, রাতে ছোট বোনকে খুঁজতে শিশুটি বাড়ি থেকে বের হয়ে চানমারী এলাকায় আসে শিশুটি। সেখানে এক ব্যক্তি তার বোনকে খুঁজে দেওয়ার কথা বলে ইজিবাইকে তুলে শিবু মার্কেট এলাকায় নিয়ে যায়। এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় তারা। আহত অবস্থায় শিশুটিকে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি খানপুর হাসপাতালে নিয়ে আসে।
শিশুটির অভিভাবক না পাওয়ায় খানপুর হাসপাতালের চিকিৎসকরা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ শিশুটিকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। তবে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
সাজেকের অস্থিরতা নিরসনে ৫ নভেম্বর সংসদীয় কমিটির বৈঠক
সাজেকসহ পার্বত্য চট্টগ্রামের চলমান অস্থিরতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই সংসদ সদস্য। এ সংকটকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে রাঙামাটিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া এবং রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পার্বত্য অঞ্চলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখা যায়। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধু পর্যটনকেন্দ্রিক নয়; এ সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে অধ্যয়নরত পাহাড়ি শিক্ষার্থীদের অনেকে ছুটিতে এলাকায় আসেন। তরুণদের এই সমাবেশকে কোনো কোনো আঞ্চলিক সংগঠন নিজেদের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন স্থানীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান অবলম্বন। এ খাতের সঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ সম্পৃক্ত। ফলে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হলে সব সম্প্রদায়ের মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। সংকট সমাধানে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আন্দোলনে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠনও আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রশাসনের উপযুক্ত পর্যায়ে আলোচনা করে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, সাজেককে কেন্দ্র করে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে চলমান অবরোধ কর্মসূচিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দীপেন দেওয়ান। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের যেকোনো ঘটনা সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা জরুরি। এসব পরিস্থিতিকে অবহেলা না করে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। দীপেন দেওয়ান আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখাই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই সংকট সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তিনি জানান, আগামী ৫ নভেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় সাজেকসহ পুরো পার্বত্য অঞ্চলের অস্থিরতা নিরসনের বিষয়টি উত্থাপন করবেন। বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এদিকে, ছাত্র জনতার সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমা এক বিবৃতিতে বলেছেন, বলপ্রয়োগ করে সাজেক বা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিদ্যমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করে আলোচনার পথ উন্মুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

ছোটবেলার বন্ধুত্ব, দাফন হলো একসঙ্গে
ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, চলাফেরাও ছিল একসঙ্গে। সেই দুই বন্ধুর জীবন থেমে গেল একই সড়ক দুর্ঘটনায়। নরসিংদীর রায়পুরায় নছিমনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিরব মিয়া (১৭) ও জীবন মিয়া (১৭) নামে দুই কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায় নরসিংদী-রায়পুরা আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নিরব মিয়া রাধানগর ইউনিয়নের সাহারচর গ্রামের মধ্যপাড়া এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। একই এলাকার জায়েদুল মিয়ার ছেলে জীবন মিয়া। তাদের বাড়ি পাশাপাশি। ছোটবেলা থেকেই তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। দুই কিশোরের এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা জানান, শুক্রবার বিকেলে মোটরসাইকেলে করে নরসিংদী শহরে ঘুরতে গিয়েছিল নিরব ও জীবন। রাতে বাড়ি ফেরার পথে হাসনাবাদ এলাকায় চলন্ত একটি নছিমনের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুজনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কে পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে স্বজনেরা দুজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ফরিদা গুলশানারা কবির বলেন, শুক্রবার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই দুই কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক ছিল। নিরবের মামা সুমন পারভেজ বলেন, নিরব ও জীবন ছোটবেলা থেকেই বন্ধু ছিল। তারা সব সময় একসঙ্গে থাকত। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুও একসঙ্গেই হলো। রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, নছিমনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই কিশোরের মৃত্যুর খবর তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে জেনেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে জানাজা শেষে নিরব ও জীবনের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে শেষ মুহূর্তের প্রচারে উত্তাপ, মুখোমুখি বিএনপি-জামায়াত
উন্নয়ন বনাম পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রচার-তৎপরতা। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের মন জয়ে জনসভা, পথসভা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের পর শূন্য হওয়া আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। বিএনপি প্রচারে গুরুত্ব দিচ্ছে উন্নয়ন ও চলমান উদ্যোগের ধারাবাহিকতায়। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চাইছেন দলটির নেতাকর্মীরা। বিপরীতে, পরিবর্তনের স্লোগানে ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা সুশাসন প্রতিষ্ঠা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং সিন্ডিকেটমুক্ত সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ভূমিকা দাবি করেছে দলটি। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দিনভর দুই প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল নির্বাচনী এলাকা। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন রহিমাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা করেন। রাতে সাহাপাড়া জামে মসজিদের সামনে এবং নিশ্চিন্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পথসভার মধ্য দিয়ে দিনের প্রচার শেষ করার কথা তার। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন শনিবার সকালে ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে (বড়মাঠ) নির্বাচনী জনসভা করেন। এতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ডাকসুর ভিপি সাদেক কায়েম, শিবির সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে বিকেলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। নির্বাচনের আগে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি আচরণবিধি প্রতিপালন ও ভোটের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী ২৬ অক্টোবর মধ্যরাতে নির্বাচনী প্রচার শেষ হবে। সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব)। আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। আগামী ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার এ আসনে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রচারে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে মুখোমুখি দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এখন ভোটারদের সমর্থন আদায়ের পাশাপাশি নির্বাচনী পরিবেশ কতটা শান্তিপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ থাকে, সেদিকেও নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

সিংগাইরে স্বপ্নের আঙ্গিনা ফাউন্ডেশনের বৃত্তি ও সংবর্ধনা পেল ৯৭ মেধাবী শিক্ষার্থী
মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর সভার ৯৭ জন মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা দিয়েছে স্বপ্নের আঙ্গিনা ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংগঠন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংশ্লষ্ট সূত্রে জানাগেছে, শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ, মেধা যাচাই ও অসহায় দরিদ্র ছাত্রছাত্রীদের সহায়তার লক্ষ্যে ২০২৪ সালে স্বপ্নের আঙ্গিনা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি একটি অরাজনৈতিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক শিক্ষানুরাগী দেওয়ান মো: আলী আকবর। দ্বিতীয়বারের মতো এবার স্বপ্নের আঙ্গিনা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃত্তি প্রদান ও সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এবছর এসএসসি পরিক্ষায় পৌর এলাকার সিংগাইর সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়, সিংগাইর পাইলট lবালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও গোবিন্দল ঘোনাপাড়া মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের ২২ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ও ৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরিক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৭ জন শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়াও ৫ জন অসহায় দরিদ্র ও গত বছরের ৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বৃত্তি প্রদান উপলক্ষ্যে শনিবার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত। স্বপ্নের আঙ্গিনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক শিক্ষানুরাগী দেওয়ান মো: আলী আকবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খায়রুন্নাহার, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন কবির, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আছমা পারভীন। এছাড়াও স্টুডেন্ট'স এসোসিয়েশন অব সিংগাইর (সাস) এর সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ডাচ-বাংলা ব্যাংক কর্মকর্তা মজনু মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম, সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান জাহিনুর রহমান সৌরভ ও সিংগাইর পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আরিফুর রহমান সজল প্রমূখ। পরে ৯৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে নগদ অর্থ ও সম্মাননা স্মারক তুলেদেন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। এসময় উপজেলা মৎস্যজীবি দলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট দ্বীন ইসলাম, স্বপ্নের আঙ্গিনা ফাউন্ডেশনের সহ প্রতিষ্ঠাতা (কো-ফাউন্ডার) মিস জলি, সিংগাইর সরকারি কলেজের আইসটি শিক্ষক কহিনুর ইসলাম, মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস ছামাদ, সিংগাইর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো: আবু আহমেদ টিটু, পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর হোসেন ও সিংগাইর সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সোহাগ দেওয়ান বুলবুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

আমরাও চাই হাসিনা আসুক, দেশের মানুষ তার বিচার দেখতে চায়: মীর শাহে আলম
ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যায় না, সত্যকে আড়াল করেও রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ যতই চেষ্টা করুক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, সেই ইতিহাস পাল্টানো যাবে না। দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া আমৃত্যু আপসহীন ছিলেন, তাঁর সেই রাজনৈতিক অবস্থানও কেউ বদলে দিতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই হুমকি দেওয়া হয়, দেশে ফিরে আসবেন। আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুন। কারণ, দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে। কিন্তু তাঁর আর দেশে ফেরা হয় না। অন্যদিকে, তারেক রহমান দেশে ফেরার দিন কোটি কোটি মানুষ ঢাকায় সমবেত হয়েছিলেন। আর শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এটাই জনগণের ভালোবাসা আর জনসমর্থনের পার্থক্য।’ তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি যুগে যুগে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা গর্ব করে বলতে পারেন, তাঁরা শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনৈতিক দলের কর্মী। জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি। জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মীর শাহে আলম বলেন, আমরা বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, জামায়াত ইসলাম নিয়ে বড় বড় কথা বললেও ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে যারা আগে জামায়াতকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের বিএনপির পতাকাতলে আসার আহ্বান জানান তিনি। মোকামতলাকে নতুন উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মোকামতলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন উপজেলার অবকাঠামো উন্নয়নসহ বাকি কাজগুলোও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনায় উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান প্রতিমন্ত্রী। শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর ১টায় বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বগুড়া জজ আদালতের জিপি শফিকুল ইসলাম টুকু, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম ও শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


