Published on
:
3 min read
সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়:
‘মোর ইজ় মোর’
ফ্যাশনের দুনিয়ায় মিনিমালিজ়ম যখন ইন, তখন সাব্যসাচী মুখোপাধ্যায়ের দর্শন ঠিক উল্টো। মোর ইজ় মোর! তাঁর ডিজ়াইনে আভিজাত্য মানে শুধু দামি পোশাক নয়, বরং ইতিহাস, নস্ট্যালজিয়া আর আবেগের মেলবন্ধন। রাজকীয় গয়না, ভারী এমব্রয়ডারি, ঘন, গভীর রং আর ঐতিহ্যবাহী সিলুয়েট, সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক স্বতন্ত্র ফ্যাশন ভাষা। পুরোনো প্রাসাদ, পারিবারিক ছবির স্মৃতি কিংবা হারিয়ে যাওয়া সময়ের রোম্যান্টিকতা যেন তাঁর সৃষ্টির অবিচ্ছেদ্য অংশ। তার সঙ্গে শহর কলকাতা তো আছেই। সব্যসাচীর পোশাকে সাজ মানে নজরকাড়া উপস্থিতি। তাঁর ফ্যাশন তাই পোশাকের গণ্ডি পেরিয়ে এক অন্য রকম জীবনদর্শন।
মনীশ মালহোত্রা:
গ্ল্যামারের গ্র্যান্ড এন্ট্রি
ফ্যাশনের মঞ্চে প্রবেশটাই যখন অর্ধেক জয়, তখন মনীশ মালহোত্রার ডিজ়াইন যেন সেই মুহূর্তেরই উদ্যাপন। তাঁর ফ্যাশন-দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে গ্ল্যামার, আভিজাত্য আর নজরকাড়া উপস্থিতি। ঝলমলে এমব্রয়ডারি, বিলাসবহুল কাপড়, সমৃদ্ধ অলংকরণ এবং নিখুঁত স্টাইলিং, সব মিলিয়ে তাঁর সৃষ্টি হয়ে ওঠে রেড কার্পেট থেকে বিয়ের আসর, সর্বত্রই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। পোশাকে শুধু সুন্দর দেখানো নয়, বরং মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে তোলাই তাঁর বিশেষত্ব। আলো, ক্যামেরা আর ফ্যাশনের মেলবন্ধনে মনীশ তৈরি করেন এক স্বপ্নিল জগৎ। তাঁর ডিজ়াইনে গ্ল্যামার কখনও বাড়তি নয়, বরং আত্মপ্রকাশের ভাষা।
Ei Samay
রাহুল মিশ্র:
খুঁটিনাটিতেই সৃষ্টির মহাকাব্য
ফ্যাশনের ক্যানভাসে রাহুল মিশ্রর জগৎ যেন প্রকৃতির এক অনবদ্য কবিতা। যেখানে একটি ফুলও হয়ে উঠতে পারে আস্ত এক কল্পলোকের অনুপ্রেরণা। তাঁর ডিজ়াইনের মূল মন্ত্র— দ্য টাইনি থিংস। অর্থাৎ, ক্ষুদ্রতম খুঁটিনাটির মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অসামান্য সৌন্দর্য। প্রতিটি নকশায় থাকে নতুন কোনও গল্প। প্রতিটি সুতোর বুননে ধৈর্য আর কল্পনার মেলবন্ধন। জাঁকজমকের চেয়েও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টির অন্তর্নিহিত অর্থ। রাহুলের ফ্যাশন তাই শুধু পোশাক নয়, প্রকৃতি ও শিল্পের নিবিড় সহাবস্থানের এক সংবেদনশীল উদ্যাপন।
Ei Samay
গৌরব গুপ্ত:
নাটকীয়তার অন্য নাম
ফ্যাশনের মঞ্চে সাদামাটা নয়, বরং নাটকীয়তাই গৌরব গুপ্তর পরিচয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাঁর সৃষ্টিতে পোশাক যেন নিছক পরিধেয় নয়, এক একটি শিল্পকর্ম। ভাস্কর্যের মতো গঠন, স্থাপত্যের অনুপ্রেরণা, অপ্রত্যাশিত কাট এবং চোখধাঁধানো সিলুয়েট, সব মিলিয়ে তাঁর ডিজ়াইন হয়ে ওঠে অনন্য। নিয়ন কালার কিংবা অতিনাটকীয় ড্রেপিংয়ে তিনি চেনা ফ্যাশনকে দেন নতুন মাত্রা। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তাঁর সৃষ্টির স্বতন্ত্র উপস্থিতি নজরকাড়া। গৌরবের কাছে ফ্যাশন মানে শুধু সৌন্দর্য নয়, আত্মপ্রকাশের সাহসী ভাষা। যেখানে পোশাক কথা বলে, আর ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠে বড় স্টাইল স্টেটমেন্ট।
Ei Samay
আবু জানি-সন্দীপ খোসলা:
আভিজাত্যের উদ্যাপন
ফ্যাশনের মঞ্চে কিছু নাম শুধু পোশাক তৈরি করে না, গড়ে তোলে এক স্বতন্ত্র জীবনদর্শন। আবু জানি ও সন্দীপ খোসলার ডিজ়াইন যেন ভারতীয় ঐতিহ্যের রাজকীয় উদ্যাপন। ঝলমলে এমব্রয়ডারি, সূক্ষ্ম চিকনকারি, জমকালো রং আর নিপুণ কারুকাজে তাঁদের প্রতিটি সৃষ্টি হয়ে ওঠে শিল্পের এক একটি অনন্য নিদর্শন। সাবেকিয়ানার সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন তাঁদের ডিজ়াইনের প্রধান আকর্ষণ। বিয়ের আসর হোক কিংবা বিশেষ কোনও অনুষ্ঠান, তাঁদের পোশাকে আভিজাত্য কথা বলে।
Ei Samay
তরুণ তাহিলিয়ানি:
আভিজাত্যের মায়ায় নিখুঁত স্টাইল
ফ্যাশনের দুনিয়ায় তরুণ তাহিলিয়ানি মানেই ঐতিহ্য আর আধুনিকতার অনন্য মেলবন্ধন। ভারতীয় পোশাকের চিরাচরিত সৌন্দর্যকে তিনি তুলে ধরেন এক নতুন আভিজাত্যে। তাঁর ডিজ়াইনে নজর কাড়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ, নিখুঁত ড্রেপিং, রাজকীয় এমব্রয়ডারি এবং শরীরের সঙ্গে মানানসই কাট। বিশেষত শাড়ি ও লেহঙ্গার পরতে পরতে ফুটে ওঠে তাঁর নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি। তবে তাঁর স্টাইলের আসল জাদু জাঁকজমকে নয়, বরং নিখুঁত ভারসাম্যে। পোশাক যেন নিজের সৌন্দর্যেই কথা বলে, ডিজ়াইনের বাড়াবাড়ি ছাড়াই। ফ্যাব্রিকের চলন থেকে প্রতিটি ভাঁজ, সবেতেই থাকে পরিমিতির ছোঁয়া। তরুণের সৃষ্টিতে ভারতীয় ফ্যাশন পায় আন্তর্জাতিক রুচির এক স্বতন্ত্র পরিচয়।
অনামিকা খান্না:
ফ্যাশনে ক্লাসিকের নতুন সংজ্ঞা
ঐতিহ্যের হাত ধরে আধুনিকতার পথে হাঁটা, ডিজ়াইনার অনামিকা খান্নার ফ্যাশন দর্শনের মূল মন্ত্র এটাই। ভারতীয় পোশাকের চেনা ছক ভেঙে তিনি তৈরি করেন এমন এক স্টাইল, যেখানে সাবেকি কারুকাজের সঙ্গে মিশে যায় আন্তর্জাতিক ফ্যাশনের ছোঁয়া। তাঁর ডিজ়াইনে লেহঙ্গা, এমব্রয়ডারি কিংবা ঐতিহ্যবাহী মোটিফ নতুন রূপ পায় অ্যাসিমেট্রিক কাট, প্যান্টস, কেপ ও স্ট্রাকচার্ড সিলুয়েটে। সাদা-কালোর বৈপরীত্য, জমকালো অলংকরণ এবং অনায়াস লেয়ারিং তাঁর স্টাইলকে করে তোলে স্বতন্ত্র।
