আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে সুর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্টগুলো বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের বরণে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্টগুলোর ৭০-৮০ ভাগ রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ।
বিচ কার্নিভাল উৎসবে পর্যটক সমাগম বৃদ্ধির লক্ষ্যে হোটেল মালিক সমিতি রুম ভাড়ার ওপর ৫০ ভাগ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ পৃথকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিচ কার্নিভাল উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বীচ ম্যারাথন, বীচ ফুটবলসহ নানা আয়োজন থাকবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জেলা প্রশাসন তথা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ আয়োজনে এ বিচ কার্নিভাল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই জানা গেছে বীচ ম্যানেজমেন্ট সূত্রে।
ইতোমধ্যে সৈকত এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।
আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি থেকে জানানো হয়েছে বিচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ইতোমধ্যে তাদের হোটেলের ৮০ ভাগ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন খান উজ্জ্বল জানান, তাদের কটেজ এবং ভিলার ৭০ ভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। দুয়েক দিনের মধ্যে শতভাগ বুকিং হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে পূজার ছুটি বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানিয়েছেন, বিচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেল, মোটেল, রিসোর্টগুলোর ৬০-৭০ ভাগ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর এখনো অধিকাংশ কক্ষ ফাঁকা রয়েছে। তিনি আরও জানান, কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষাধিকের ওপরে পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, বিচ কার্নিভাল উৎসবে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগতরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন এ জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, এসআরবির পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, ‘৫ দিনের সরকারি ছুটি ও বিচ-কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা নতুন রূপে সাজতেছে। থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।’
