আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে রাজধানীতে গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে সরকার। এতে সারাদেশ থেকে প্রায় ৫০ হাজার গ্রাম পুলিশ অংশ নেবেন। মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশদের মহাসমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এসব কথা জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও
সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পরিষদের তৃণমূল পর্যায়ে কর্মরত গ্রাম পুলিশদের নিয়ে সরকারিভাবে এ ধরনের মহাসমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী ৭ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর সাবেক বাণিজ্যমেলার মাঠে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। সভাপতিত্ব করবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। সমাবেশ আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। মহাসমাবেশস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সার্বিক আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা ওয়াসা, ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সহযোগিতা করবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউটিলিটি বিভাগগুলোকে নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরেকটি প্রস্তুতিমূলক সভা করা হবে বলেও জানান তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, গ্রাম পুলিশরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে সমাবেশ করে মন্ত্রী ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। পরে সরকার সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চিন্তা করেছেন, এবার সরকারিভাবে তাদের ডেকে এনে সরাসরি তাদের কথা শুনবেন। একদম তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর যারা রাখেন, পুলিশকে সহায়তা করেন, ইউনিয়ন পরিষদকে সহায়তা করেন, সেই গ্রাম পুলিশদের কথা প্রধানমন্ত্রী সরাসরি শুনতে চান। তাদের দাবি-দাওয়াগুলো শুনে যতদূর সম্ভব সরকারের সামর্থ্যরে মধ্যে বাস্তবায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশ রয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের আইনগত ক্ষমতা, বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার।
এক প্রশ্নে তিনি বলেন, গ্রাম পুলিশের ক্ষমতা ও দায়িত্ব আইন দ্বারা নির্ধারিত। তবে তাদের আইনগতভাবে ক্ষমতা বৃদ্ধি, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি বা আর কী কী করা যায়, এসব বিষয়ে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রস্তাব দিতে ডিডিএলজিদের নির্দেশনা দিয়েছি। প্রস্তাব পাওয়ার পর মন্ত্রণালয় আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপে উপস্থাপন করবে। তিনি যেসব বিষয় অনুমোদন করবেন, সেগুলো সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হবে।
এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র কলঙ্ক নিতে চায় না সরকার বলেও মন্তব্য করেছেন মীর শাহে আলম। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের পক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করা হবে না। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে বর্তমান সরকার ও স্থানীয় সরকার বিভাগ সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে নিয়োজিত স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি), সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে ইতোপূর্বে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত প্রতিটি নির্বাচনে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়। দীর্ঘদিন পর দেশের মানুষ যেন গ্রামে গ্রামে একটি আনন্দময় ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরিতে নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে সরকার। এই নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম বা কলঙ্কের দায় সরকার নেবে না বলে জানান তিনি।
দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাসংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নে মীর শাহে আলম বলেন, ‘স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি। এই লক্ষ্যে আগামীকাল থেকে উপজেলা, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় ম্যাসিভ পরিসরে মাইকিং, সামাজিক মাধ্যমে প্রচার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের সমন্বিত অভিযান শুরু হচ্ছে। এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে গতি আনতে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়ে বিএনসিসি, স্কাউটস, রোভার স্কাউটস, গার্ল গাইডস, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকবে।
