Published on
:
2 min read
আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স। দেশ জুড়ে চলা মিছিল শনিবার মূহুর্তের মধ্যে পরিণত হয় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে। একাধিক শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষও হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় শয়ে শয়ে গাড়ি, চলে ব্যাপক লুটপাট। এমনকী চলমান অশান্তির জেরে লিমোজ শহরের ১৪০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেয় একদল মুখোশধারী। যেই টাউন হল দুটি বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা সহ্য করেও মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল, সেই ঐতিহাসিক স্থাপত্যের বড় অংশই এখন আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দেশ জুড়ে প্রায় ১,২০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫০ জন পুলিশকর্মী।
একনজরে
আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়েছে।
শনিবার একাধিক শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।
প্যারিস, মার্সেই, নিস, বোরদো, লিলের মতো শহরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
লিমোজ শহরের ১৪০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেয় একদল মুখোশধারী।
আগুনে ঐতিহাসিক টাউন হলের বড় অংশ পুড়ে গিয়েছে। ভবনটি এর আগে দুটি বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা সহ্য করেছিল।
মার্সেই ও লিলের টাউন হলে ভাঙচুর এবং লিয়ঁ শহরের পর্যটন দপ্তরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
একাধিক শহরে বেলাগাম লুঠপাট ও ভাঙচুর
প্যারিস, মার্সেই, নিস, বোরদো ও লিলের মতো বড় বড় শহরগুলিতে চরম অরাজকতা তৈরি হয়। বহু রাস্তাঘাট কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমনকী, মুখে কাপড় বেঁধে সংগঠিত ভাবে দলে দলে যুবক বাজারে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। এ ছাড়াও, সিসিটিভি ক্যামেরার তার কেটে দিয়ে একের পর এক নামী বিপণি, ওষুধের দোকান ও ইলেকট্রনিক্স শোরুমের কাচ ভেঙে অবাধে লুটপাট চালানো হয়। লিমোজ ছাড়াও মার্সেই ও লিলের টাউন হলে ঢুকে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। লিয়ঁ শহরে পর্যটন দপ্তরের দপ্তরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং বোরদোতে পুলিশ ছাউনি লক্ষ্য করে চলে হামলা।
— Inevitable West (@Inevitablewest) October 17, 2026🚨BREAKING: The historic Limoges town hall has just completely collapsed after far-left rioters set it on fire
It was built in 1876. It survived World Wars. It did not survive modern France. pic.twitter.com/LRjxvBQ5KV
কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান নিয়ে পাল্টা পুলিশ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ছোঁড়ে। পাল্টা আতসবাজি ও ইট-পাথর নিয়ে পুলিশের উপর চড়াও হয় উন্মত্ত জনতা। দক্ষিণের সাঁ-এতিয়েন শহরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ছোঁড়া গ্রেনেডের আঘাতে ১৭ বছরের এক কিশোরের ডান হাত উড়ে গিয়েছে। ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সাড়ে পাঁচ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নামলেও, আন্দোলনকারী শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি প্রায় আট লক্ষ মানুষ এই মিছিলে সামিল হয়েছিলেন।
কড়া হুঁশিয়ারি ম্যাক্রোঁর, সরব বিরোধীরা
ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি জানিয়েছেন, যারা সরকারি ভবন ও দোকানে হামলা চালিয়েছে কিংবা লুঠপাট করেছে, তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মুখে এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিরোধী দলগুলিও। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে গোটা ইউরোপে জিনিসপত্রের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া থেকেই এই ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। ফরাসি বিপ্লবের নানা স্লোগান তুলে আন্দোলনকারীরা দাবি তুলেছেন প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের।
FAQ
১. প্রশ্ন: ফ্রান্সে কেন বিক্ষোভ শুরু হয়েছে?
উত্তর: আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে ইউরোপে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়াও এই ক্ষোভের অন্যতম কারণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২. প্রশ্ন: কোন কোন শহরে অশান্তি ছড়িয়েছে?
উত্তর: প্যারিস, মার্সেই, নিস, বোরদো, লিল, লিমোজ, লিয়ঁ ও সাঁ-এতিয়েন-সহ একাধিক শহরে অশান্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
৩. প্রশ্ন: লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলে কী ঘটেছে?
উত্তর: একদল মুখোশধারী ব্যক্তি টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১৪০ বছরেরও বেশি পুরোনো এই ভবনের বড় অংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছে।
৪. প্রশ্ন: ফ্রান্সের অন্য শহরগুলিতে কী ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে?
উত্তর: মার্সেই ও লিলের টাউন হলে ভাঙচুর, লিয়ঁর পর্যটন দপ্তরে অগ্নিসংযোগ এবং বোরদোতে পুলিশ ছাউনিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।