সৌদি আরবের তিনটি বিমানবন্দর, একটি বিমানঘাঁটি ও কয়েকটি তেল স্থাপনায় সাতটি ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো এসব দাবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
আজ শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এমন দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ইয়ানবুতে আরামকোর একটি স্থাপনায় নির্ভুল হামলা চালানো হয়েছে। কিং খালিদ বিমানবন্দরে দুই ধাপে হামলা চালানো হয় বলেও জানান তিনি।
সারি আরও দাবি করেন, রাবিগ তেল শোধনাগার, অপরিশোধিত তেল পাম্পিং স্টেশন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনেও হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় তাদের লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করেন হুতি মুখপাত্র।
এ ছাড়া দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও নাজরান বিমানবন্দরেও হামলা সফল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানোর কথা জানান সারি।
এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে সারি বলেন, সৌদি ভূখণ্ডের আরও গভীরে তাদের অভিযান চলবে। ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ এবং হামলার জবাবে হামলা’—এই নীতি অনুসরণ করে সৌদি সামরিক বাহিনীর স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। যতক্ষণ আগ্রাসন বন্ধ না হবে এবং ইয়েমেনের ওপর অবরোধ প্রত্যাহার না হচ্ছে, ততক্ষণ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এর আগে আজ শনিবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, তাইফ ও ইয়ানবুর দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পর সৌদির বিভিন্ন স্থাপনা ও বিমানবন্দরে হামলার দাবি করে হুতিরা।
হুতিদের দাবি অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন, অপরিশোধিত তেল পাম্পিং স্টেশন, ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনা এবং রাবিগ তেল শোধনাগার। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নাজরান বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটিও হামলার লক্ষ্য ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অবশ্য সৌদি সিভিল ডিফেন্স আজ তাইফ, ইয়ানবু, মক্কা ও জেদ্দার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সাময়িক সতর্কতা জারি করেছিল। তবে ১০ মিনিট পর জানানো হয়, বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।
হুতিদের সর্বশেষ দাবির আগে বৃহস্পতিবারও সৌদি আরবে হামলার কথা জানিয়েছিল সংগঠনটি। সেদিন রিয়াদে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ইয়ানবুর সৌদি আরামকোর স্থাপনা এবং দাম্মামের কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দাবি করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, দাম্মামে হামলায় দুজন নিহত হয়েছেন। তবে রিয়াদ ও ইয়ানবুর হামলার বিষয়ে তারা কোনো নিশ্চিত তথ্য দেয়নি।
ওই দিন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট রিয়াদ ও মদিনার আকাশে ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছিল। এর এক দিন আগে মদিনা ও সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলেও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছিল জোটটি। তবে মদিনার দিকে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছিল হুতিরা।
