গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সংকট ও শিল্পকারখানা বন্ধের অভিযোগ তুলে সরকারের সমালোচনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নে নেতাকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের সমালোচনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য, এমন সরকার আমরা পেলাম, যাদের নামই হয়ে গেল ‘টুকু নাই, টুকু নাই’। এত বলি, টুকু কই? টুকু তো আর আসে না। আজকে মিটিংয়ে আইসা ও টের পাইলেন, টুকু মাঝে মধ্যে টুক করে আসে বটে, কিন্তু টুকু আমাদের ঘরে থাকে না।
দেশের গ্যাস সংকটের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাড়ির গ্যাসের লাইনেও এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে, ১ হাজার ৮০০ টাকার সিলিন্ডারের দাম বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায় পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, আমরা আশা করেছিলাম, একটা জনগণের সরকার পাব। এমন সরকার পাব, যারা আমাদের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও আইনশৃঙ্খলার সমস্যার সমাধান করবে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, বাজারে গিয়ে একটা সবজি কিনে খাব, সেই সবজির দামও ৮০-৯০ টাকার নিচে নেই।
কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ছয় মাসের মধ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও সেই পরিকল্পনার প্রভাবে ঢাকার হকার ও অটোরিকশাচালকদের বাড়িতে বসে থাকতে হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
শিল্পকারখানা বন্ধের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই পরিকল্পনার ধাক্কায় গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারে কয়টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, খবর নেন। ওই পরিকল্পনার ধাক্কায় আমার কত শ্রমিক ভাই চাকরি হারিয়েছেন, একটু খবর নেন।
এ সময় সারের ডিলারশিপ নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, তাঁর কোনো আত্মীয়কে সারের ডিলারশিপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। একইভাবে, রাস্তার ঠিকাদারিও তাঁর কোনো আত্মীয়কে দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় পাকশিমুল ইউনিয়নের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
