এবার জঙ্গলপ্রেমীদের জন্য দরজা খুলছে ওড়িশার সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভ। গত চার মাস বর্ষার জন্য বন্ধ থাকার পর আগামী ১ নভেম্বর থেকে ফের পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ময়ূরভঞ্জের এই বিখ্যাত জঙ্গল। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গোপন আস্তানা থেকে শুরু করে বিশ্বের একমাত্র দুর্লভ কালো বাঘ—সব মিলিয়ে রোমাঞ্চের খোঁজে ব্যাকুল মনগুলোর জন্য এ এক দারুণ সুখবর। তবে জঙ্গল মানেই অবাধ স্বাধীনতা নয়, এবার কড়া নিয়ম আর অনুশাসনের চাদরে মোড়া থাকবে এই অরণ্যভ্রমণ।
বন দফতর সূত্রে খবর, ভিড় সামলাতে এবং পরিবেশ বাঁচাতে এবার প্রতিদিন মাত্র ৬০টি গাড়ির এন্ট্রি মিলবে। পিথাবটা, গুডুগুড়িয়া, জামুয়ানি কিংবা তালাবান্ধা—যে গেট দিয়েই ঢুকুন না কেন, সঙ্গে থাকা গাইডই আপনার পথপ্রদর্শক। জশিপুর গেট দিয়ে ঢুকতে হবে সকাল পাঁচটা থেকে নটার মধ্যে, আর পিথাবটার সময়সীমা সকাল আটটা থেকে নটা। জশিপুর বা বারেহিপানির জলপ্রপাত দেখে বিকেল চারটের মধ্যে ওই এলাকা ছাড়া বাধ্যতামূলক। দিনশেষে সূর্য ডোবার আগেই, অর্থাৎ সন্ধে ছটার মধ্যে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসতেই হবে সব পর্যটককে। সামান্য নিয়মভঙ্গের বালাই নেই, কড়া নজরদারি থাকছে প্রশাসনের।
প্রায় সাতাশশো বর্গকিলোমিটারের এই সুবিশাল অরণ্যে শুধু বাঘ নয়, দেখা মিলবে হাতি, চিতাবাঘ, গৌর থেকে শুরু করে বিরল প্রজাতির নানা পাখির। রাত কাটানোর জন্য কুমারী বা গুডুগুড়িয়ার ইকো-কটেজগুলোও সেজে উঠেছে নতুন রূপে। তাহলে আর দেরি কেন? ব্যাগে ক্যামেরা আর পিঠে থলে নিয়ে চটপট গুছিয়ে নিন উইকএন্ডের প্ল্যান।
কীভাবে যাবেন?
ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় অবস্থিত সিমলিপাল পৌঁছানোর প্রধান গেট বা এন্ট্রি পয়েন্টগুলি হল জশিপুর এবং বারিপদা।
ট্রেনে: সবচেয়ে কাছের রেলওয়ে স্টেশন হল বালেশ্বর। হাওড়া বা কলকাতা থেকে ট্রেনে বালেশ্বর বা টাটানগর পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে ক্যাব বা বাসে জশিপুর বা বারিপদা যাওয়া যায়।
সড়কপথে: কলকাতা থেকে এনএইচ ১৬ ধরে ওড়িশার দিকে গিয়ে সহজেই সড়কপথে জশিপুর বা বারিপদার পিথাবটা চেক গেটে পৌঁছানো সম্ভব।
কোন সময় যাবেন?
বর্ষার চার মাস বন্ধ থাকার পর প্রতি বছর ১ নভেম্বর থেকে এই অভয়ারণ্য পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
শীতকাল (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) সিমলিপাল ভ্রমণের সেরা সময়। এই সময়ে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং জঙ্গল ও জলপ্রপাতগুলি ঘুরে দেখার জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
প্রবেশ এবং সাফারির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে হবে (যেমন— সকালের শিফট শুরু হয় ভোর ৫:৩০ টায় এবং বিকালের শিফট দুপুর ২টায়)।

কোথায় থাকবেন?
বনের মধ্যে রাত কাটানোর জন্য বন দফতর ও পর্যটন বিভাগের ইকো-ট্যুরিজম লজ রয়েছে। আগে থেকে বুকিং করে নিম্নলিখিত জায়গাগুলিতে রাত্রিযাপন করা যায়:
১. কুমারী (Kumari)
২. গুডুগুড়িয়া (Gooduguria)
৩. তালাবান্ধা (Talabandha)
৪. বারেহিপানি (Barehipani)
৫. জামুয়ানি (Jamuani)
