Published on
:
2 min read
পুজোর আগে উত্তেজনা ছড়াল পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকায়। রবিবার ভোরে মত্ত অবস্থায় এক গাড়িচালকের উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে তিন যুবকের বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশকর্মীরাও। ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতরা সকলেই কসবার বাসিন্দা। ধৃতদের নাম সুপ্রতীক সাহা, অঙ্কুর রায় ও জগজ্যোত সিং। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মারধর, কর্তব্যরত পুলিশকর্মীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মামলা রুজু হয়েছে।
ঘটনাটি পার্ক স্ট্রিট ও রাসেল স্ট্রিট ক্রসিংয়ের কাছে একটি দামি হোটেলের কাছে ঘটেছে বলে জানা যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার ভোরে একটি গাড়িতে চড়ে তিনজন যাচ্ছিলেন। হোটেলের কাছে পৌঁছতেই তিন মত্ত পথচারী হঠাৎ গাড়ির সামনে চলে আসেন। অভিযোগ, প্রথমে তাঁরা গাড়ির চালককে নামিয়ে মারধর শুরু করেন। এর পরে গাড়িতে থাকা যুবকদের সঙ্গে তাঁদের ঝগড়া বাধে এবং দুই পক্ষই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সেই সময়ে গাড়ির আরোহীরা গাড়ির চাবি দিয়ে আঘাত করেন, যার ফলে তিন পথচারীর একজনের পেটে চোট লাগে।
গোলমালের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে তড়িঘড়ি পৌঁছন পার্ক স্ট্রিট থানার দুই পুলিশকর্মী। অভিযোগ, তখন ওই তিন পথচারী পুলিশকর্মীদের উপরেও চড়াও হন। তাঁদের মারধর করা হয় এবং উর্দি ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এক পুলিশকর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ট্যাক্সিচালক পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ধৃতদের পাল্টা অভিযোগ, গাড়িটি বেপরোয়া গতিতে আসছিল এবং তাঁদের প্রায় ধাক্কা মেরে দিচ্ছিল। প্রতিবাদ করতেই গাড়ির লোকজন তীব্র বাদানুবাদ শুরু করেন এবং তাঁদের নির্মম ভাবে মারধর করেন। তাঁদের আরও অভিযোগ, হাতাহাতির মধ্যে গাড়ির এক আরোহী ধারালো কিছু দিয়ে এক জনের পেটের বাঁ দিকে আঘাত করেন। তাঁদের দাবি, ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পরে পুলিশের বক্তব্য, ধৃত পথচারীরাই কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের মারধর করেছেন এবং গাড়িচালকের উপরেও হামলা চালিয়েছেন। ছুরি নয়, ধস্তাধস্তির সময়ে আত্মরক্ষা করতে গিয়ে গাড়ির চাবিতে একজনের পেটে সামান্য আঘাত লেগেছে বলে দাবি পুলিশের।
উল্লেখ্য, পার্ক স্ট্রিট এলাকায় রাতে মোটরসাইকেলে পুলিশি টহল এবং নাকা-তল্লাশি চলে। রাত ১২টা থেকে ২টো পর্যন্ত এই নজরদারি থাকলেও ভোরের এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এমন ঘটনা এড়াতে আগামী দিনে ওই এলাকায় নজরদারি আরও কড়া করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
