আগে কখনও দেবী দুর্গার বড় মৃন্ময়ী মূর্তি গড়েননি। এবার দেবী দুর্গার বড় প্রতিমা তৈরি করবেন। সেই মানত করেছিলেন কলেজ পড়ুয়া বাপ্পাদিত্য দাস। সেই মতো এবার দেবীর মৃন্ময়ী মূর্তি তৈরি শুরু করেন এই তরুণ। গ্রামেই মন্দিরে প্রতিবার দুর্গাপুজো হয়। নিজের হাতে তৈরি প্রতিমা ওই পুজো কমিটিকে বিনামূল্যে তুলে দিলেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রাও তাঁর সুখ্যাতি করছেন। বাপ্পাদিত্যের শিল্পে মুগ্ধ স্থানীয়রা। ঘটনাটি বীরভূমের ময়ূরেশ্বর নিমাডাঙাল গ্রামের।
ময়ূরেশ্বর দু’নম্বর ব্লকের ওই গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পাদিত্য দাস সাঁইথিয়া কলেজের কলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র। ছোট থেকেই ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিমা তৈরির নেশাকেও সযত্নে লালন করেছেন তিনি। সেই তাগিদ থেকেই গত পাঁচবছর ধরে মূর্তি তৈরি শুরু করেছেন এই তরুণ। তবে এতদিন তিনি ছোট ছোট দুর্গা প্রতিমাই তৈরি করেছেন। দেবী দুর্গার বড় মৃন্ময়ী প্রতিমা এর আগেই কখনও তৈরি করেননি তিনি।
এবার পুজোয় দেবী দুর্গার বড় মৃন্ময়ী প্রতিমা তৈরি করবেন, সেই মানত করেছিলেন বাপ্পাদিত্য। সেই মতো এবার প্রতিমা তৈরির কাজও শুরু করেন। প্রায় তিনমাস আগে শুরু হয় এই প্রতিমা তৈরির কাজ। গ্রামেরই চণ্ডীমণ্ডপে দুর্গাপুজো হয়। তাঁর তৈরি প্রতিমা বিনামূল্যে ওই পুজো কমিটিকে দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন তিনি। তাঁর এই ইচ্ছাকে সাদরে গ্রহণ করেন পুজো কমিটির সদস্যরা। মন্দিরের মঞ্চেই কাজ শুরু হয়। কলেজের পড়াশোনার ফাঁকে অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে মাটির প্রলেপে ফুটিয়ে তোলেন দশভুজা মায়ের রূপ। প্রতিমার কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে সাজসজ্জা ও চক্ষুদান—প্রতিটি ধাপেই ছিল তাঁর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার ছাপ।
ভারী কাজের ক্ষেত্রে বন্ধুদের সামান্য সহযোগিতা পাওয়া গিয়েছে। তবে নির্মাণের মূল দায়িত্ব নিজের হাতেই সামলেছেন এই তরুণ। তাঁর কাজ দেখতে ভিড় করেছেন গ্রামের মানুষজন। নিজের হাতে তৈরি প্রতিমা গ্রামের পুজোয় ব্যবহৃত হবে, এই ভাবনাতেই আনন্দিত বাপ্পাদিত্য। চতুর্থীতেই প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বাপ্পাদিত্যের কথায়, “ছোটবেলা থেকেই নিজের হাতে মা দুর্গার মূর্তি গড়ার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্নপূরণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনুশীলনও করেছি।” তাঁর শিল্পকাজের প্রশংসা করছেন গ্রামের মানুষজনও।
