পুজো আর সাহিত্য- দুইয়ের মধ্যে অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক। এবারও নতুন জামাকাপড়ের সঙ্গে রমরমিয়ে বিক্রি হয়েছে পুজোসংখ্যা। এই ডিজিটাল যুগে ডিজিটাল পত্রিকার জনপ্রিয়তাও বাড়ছে। কিন্তু এরই মধ্যে আট দশকের এক পত্রিকার নতুন সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। যে পত্রিকা সম্পূর্ণ হাতে লেখা! পূর্ব বর্ধমানের প্রত্যন্ত আনগুনা গ্রামে সেই স্বাধীনতার বছর থেকে নিয়মিতভাবে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন প্রকাশিত হয়ে আসছে ‘শারদীয় প্রভাত পত্রিকা’। লেখকসূচিতে কাজী নজরুল ইসলাম থেকে সত্যজিৎ রায় কে নেই। এবারও প্রকাশিত হয়েছে পত্রিকা। লক্ষ্মীপুজোর দিনই।
পূর্ব বর্ধমানের রায়নার এই গ্রামে ১৯৪৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ‘শারদীয় প্রভাত পত্রিকা’। বিভিন্ন জনের লেখা সংগ্রহ করে তা হাতে লিখে আট ইঞ্চি বাই বারো ইঞ্চি মাপের আর্ট পেপার কেটে তৈরি করা হয় এই পত্রিকা। দুশোরও বেশি পাতা থাকে। পাতা জুড়ে থাকে রঙিন আঁকিবুকিও। লেখকসূচির চমকের কথা আগেই বলা হয়েছে। এযাবৎকাল এই পত্রিকায় লিখেছেন বহু বিশিষ্টজন। কাজী নজরুল ইসলাম থেকে কালিদাস রায়, সত্যজিৎ রায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, নবনীতা দেবসেন, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। এখনও সেই সমস্ত সংখ্যা সযত্নে রাখা রয়েছে।
গ্রামের প্রভাত স্মৃতি সংঘের সদস্যদের প্রচেষ্টাতেই এতকাল ধরে প্রকাশিত হয়ে আসছে এই সাহিত্য পত্রিকা। এবারের পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন সৌমজিৎ দাঁ, উজ্জ্বল বারিক, স্বরাজবন্ধু হাজরা, দীপঙ্কর রায়। প্রচ্ছদ আঁকার দায়িত্বে সৌমেন্দু চক্রবর্তী। সৌমজিৎ দাঁ জানাচ্ছেন, গ্রামের সকলের সহযোগিতা আর মূলত কয়েকজন ছেলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই পত্রিকা প্রকাশিত হয়ে আসছে। এবারে ৮০তম বর্ষে পা দিচ্ছে এই হাতে লেখা পত্রিকা। অনেকেই পড়াশোনার ফাঁকে হাতের লেখায় লিখে চালাচ্ছে পত্রিকা প্রকাশনার কাজ। আনগুনা গ্রাম ছাড়াও আশপাশের গ্রামের সাহিত্যপ্রেমী তরুণ-তরুণীদের লেখা কবিতা, গল্প সবই গুরুত্ব দিয়ে এই পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়। এক আশ্চর্য দৈবী অনুপ্রেরণায় কার্যতই অসাধ্যসাধন করে চলেছেন তাঁরা।
