জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে নেতানিয়াহুর বহরে হামলা
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ৭৭তম জন্মদিন উদযাপনের যাত্রাপথে, জেরুজালেমের মাহানে ইহুদা বাজারের কাছে তার গাড়িবহর লক্ষ্য করে একটি কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় গাড়িবহরটি না থেমে চলে যায় এবং সিকিউরিটি গার্ডরা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যারিকেড ডিঙিয়ে অভিযুক্তকে খোঁজার চেষ্টা করে।
দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্যমতে, নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী সারা মাহানে ইহুদা বাজারে পৌঁছালে লিকুদ দলের সমর্থকরা তাদের স্বাগত জানান।
আরও পড়ুন
তবে এর আগে তেল আবিবের হাতিকভা বাজারে সফরকালে নেতানিয়াহু তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন। সেখানে এক ব্যক্তি হামাসকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে ভিডিও করতে গেলে লিকুদ সমর্থকরা তার ফোন ফেলে দেয় ও ধাক্কাধাক্কি করে।
উক্ত প্রতিবাদে ৭ অক্টোবরের হামলায় নিহত ও জিম্মি হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নিহত জিম্মি গায় ইলুজের বাবা মিশেল ইলুজ, কারমেল গেটের কাজিন গিল দিকমান এবং মাতান জাঙ্গাউকারের মা আইনাব জাঙ্গাউকার সেখানে উপস্থিত হয়ে ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতার দায় নিয়ে নেতানিয়াহুকে পদত্যাগের আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন
আইনাব জাঙ্গাউকার জানান, ‘তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করা হয়, থুথু ফেলা হয় ও সবজি ছুড়ে মারা হয় এবং পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।’
জিম্মি হয়ে মারা যাওয়া গায় ইলুজের বাবা মিশেল ইলুজ এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং আগামী নির্বাচনে নাগরিকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
এএফ/
আরও পড়ুন
তাইওয়ানে শক্তিশালী টাইফুন ‘চাম্পি’র আঘাত, শত শত ফ্লাইট বাতিল
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
সংগৃহীত
-->পরাক্রমশালী ঘূর্ণিঝড় 'চাম্পি'র আকস্মিক তাণ্ডবে অচল হয়ে পড়েছে তাইওয়ান। উত্তর-পূর্ব উপকূলের দিকে দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা এই শক্তিশালী সাইক্লোনের প্রভাবে পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের শত শত আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড় চাম্পির প্রভাবে সৃষ্ট উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এ ছাড়া ঝড়ে অন্তত ১ হাজার ৭৭১ জন আহত হয়েছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে ১ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার তাইওয়ানের প্রায় ২২টি কাউন্টি ও শহরের সকল স্কুল, কলেজ এবং সরকারি-বেসরকারি অফিস ছুটি ঘোষণা করা হয়। বন্ধ রাখা হয়েছে দেশের ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল শেয়ার বাজারও।
আরও পড়ুন
তাইওয়ানের সেন্ট্রাল ওয়েদার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের মূল কেন্দ্রটি হয়তো স্থলভাগে সরাসরি আঘাত না-ও হানতে পারে, তবে এর প্রভাবে শনিবার পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত রেকর্ড বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেই সঙ্গে বয়ে যেতে পারে ঘণ্টায় প্রায় ১৯১ কিলোমিটার বেগের বিধ্বংসী দমকা হাওয়া। সার্বিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সমুদ্র উপকূল ও পাহাড়ি এলাকা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী 'সুপার এল নিনো'র প্রভাবে পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর একের পর এক প্রলয়ংকরী ঝড় আঘাত হানছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ঘূর্ণিঝড় চাম্পি যখন ফিলিপাইন সাগরে অবস্থান করছিল, তখন এটি ঘণ্টায় ২৯৮ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ নিয়ে চলতি বছরের পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী 'সুপার টাইফুন'-এ পরিণত হয়।
আরও পড়ুন
তাইওয়ানের পাশাপাশি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জেও ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছে চাম্পি। সেখানে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে এবং জাপানের চারটি প্রধান বিমান সংস্থাই তাদের ১৬০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলীয় বাতানেস দ্বীপেও এর প্রভাবে উত্তাল সমুদ্র ও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালের পর এ বছরই পুরো অঞ্চলে রেকর্ড সংখ্যক ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি দেখা যাচ্ছে। তাইওয়ান উপকূল অতিক্রম করার পর এটি চীনের পূর্ব উপকূল হয়ে জাপানের মূল ভূখণ্ডের দিকে মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
আজহার/
আরও পড়ুন
পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলা, ৫ ইসরায়েলি গুরুতর আহত
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি সামরিক চেকপোস্টে ফিলিস্তিনি নাগরিকের গুলিবর্ষণে কমপক্ষে পাঁচ ইসরায়েলি আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ ঘটনার পর পশ্চিম তীরের হেবরন শহর অবরুদ্ধ (লকডাউন) করে রাখে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
জানা গেছে, দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী একটি গাড়ি নিয়ে চেকপোস্টের কাছে এসে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত গুলি চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে ওই দুই বিদ্রোহী নিহত হন।
আরও পড়ুন
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, হামলাকারীদের গাড়িতে প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদ পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তারা ওই এলাকায় আরও বড় ধরনের কোনো হামলার পরিকল্পনা করেছিল।
এই হামলার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করেন এবং পশ্চিম তীরে পূর্ণাঙ্গ লকডাউনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় নেতানিয়াহু তার পূর্বনির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করেছেন। সূত্র: সিএনএন
আরও পড়ুন
আজহার/
আরও পড়ুন
সুস্থ থেকেও কেনো প্রকাশ্যে আসছেন না মুজতবা খামেনী
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
আপডেট: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি ছবি: সংগৃহীত
-->যুদ্ধ শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় আহত হওয়ার আট মাস পার হলেও প্রকাশ্যে আসেননি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে ইরানি কূটনীতিক আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহী জানিয়েছেন, মুজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মুজতবাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কেবল লিখিত বিবৃতির মাধ্যমেই যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন, সরাসরি কোনো জনসমক্ষে আসেননি। এমনকি জুলাই মাসে সম্পন্ন হওয়া তার বাবার জানাজায় দেখতে না পাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা ও সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যেষ্ঠ ইরানি কূটনীতিক আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহী বলেন, ‘তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং খুব ভালোভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করছেন। গত সপ্তাহে তার সঙ্গে প্রায় সাত ঘণ্টার একটি বৈঠক হয়েছে। আগামী পরশু এখানে আসতে যাওয়া আমাদের জাতীয় সংসদের স্পিকারও গতকাল জানিয়েছেন যে, তিনি বেশ কয়েক ঘণ্টা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আমার অনেক পরিচিত বন্ধু তার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তারা আমাকে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি সুস্থ আছেন।’
আরও পড়ুন
বাবার জানাজায় অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি খণ্ডন করে তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি গণমাধ্যমের সামনে আসেননি এবং সাধারণ মানুষ তাকে দেখেনি। কিন্তু তিনি বাবার জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। ওই সময় আমি ইরানেই ছিলাম এবং তার দুই ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি, যেখানে মুজতবা খামেনি নিজেও ছিলেন।’
তিনি আরও যোগ করেন, এমনকি কোনো কোনো রাতে তিনি ছদ্মবেশে রাস্তায় বের হন, সাধারণ মানুষের মিছিলেও অংশ নেন এবং অত্যন্ত সুচারুভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরও পড়ুন
মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া এই যুদ্ধ এবং দেশের নাজুক অর্থনীতি নিয়ে যখন ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে, তখন মুজতবার শারীরিক অবস্থা ও ভূমিকা নিয়ে নানা আলোচনা তীব্র হচ্ছে। তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্যেষ্ঠ সূত্র ও সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, খামেনি পুরোপুরি দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। শারীরিক আঘাত সামলে ওঠার পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে আড়ালে থেকেই তিনি দেশ পরিচালনা করছেন এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের দায়িত্ব শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর বণ্টন করে দিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, মূলত আততায়ীর হামলার আশঙ্কাতেই তিনি প্রকাশ্যে আসা এড়িয়ে চলছেন। তবে তিনি নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করছেন, সরকারের যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন এবং যেকোনো মূল বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর আগেও তিনি মূলত বাবার প্রধান সহযোগী হিসেবে নেপথ্যে কাজ করতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন এবং প্রচারবিমুখ ছিলেন।
এর আগে ২১ জুলাই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ দিন দিন বাড়ছে। মে মাসে তাদের মধ্যে প্রথম দীর্ঘ বৈঠকের খবর রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল।
চলতি মাসের শুরুর দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, আট মাসে পা দেওয়া এই যুদ্ধের মধ্যে কে ইরান পরিচালনা করছে তা কেউ জানে না। তবে এই বক্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশটির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং কার কাছে প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বেশ ভালোভাবেই জানে। সূত্র: এনডিটিভি
অলি/
আরও পড়ুন
এল নিনোর প্রভাবে বদলে যাচ্ছে বিশ্বের আবহাওয়া
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার প্রাকৃতিক ঘটনা এল নিনো। এর প্রভাবে বিশ্বের কোথাও তীব্র গরম ও খরা, কোথাও বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বাড়ে। গত কয়েক মাসে এল নিনোর প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এল নিনোর প্রভাব আরও বাড়তে পারে এবং ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এল নিনোর পাঁচটি উল্লেখযোগ্য প্রভাব তুলে ধরা হলো।
ইন্দোনেশিয়ায় ২০১৫ সালের পর ভয়াবহ দাবানল
এল নিনোর বছরে ইন্দোনেশিয়ায় সাধারণত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া থাকে। এ বছর জানুয়ারি থেকে অন্তত ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৬৫৭ হেক্টর জমি পুড়েছে। আয়তনটি বৃহত্তর লন্ডনের প্রায় ছয় গুণ। গত বছর এল নিনোর প্রভাব না থাকলেও যত জমি পুড়েছিল, এবার তার দ্বিগুণের বেশি পুড়েছে। দাবানলের কারণে বিভিন্ন এলাকায় স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে।
আরও পড়ুন
সুমাত্রা ও কালিমান্তানের লাখ লাখ মানুষ বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে এসেছে। শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। এর মধ্যে দুই বছরের কম বয়সী শিশু রয়েছে ৪০ হাজারের বেশি।
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের তৎপরতা বেশি
এল নিনোর প্রভাবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের তৎপরতা সাধারণত বাড়ে। এ বছর সেখানে এরই মধ্যে ২২টি নামযুক্ত ঝড় তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে ১২টি ঘূর্ণিঝড়, যার ১০টি ছিল শক্তিশালী। মৌসুম শেষ হতে এখনো দুই মাস বাকি।
আরও পড়ুন
এল নিনোর কারণে সমুদ্রের পানি উষ্ণ হয় এবং বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে বাতাসের গতির পার্থক্য কমে। এতে ঝড় দ্রুত শক্তিশালী হতে পারে। এর উদাহরণ ঘূর্ণিঝড় পোলো। এর বাতাসের ঝাপটার গতি ঘণ্টায় ২৮৫ কিলোমিটারে পৌঁছেছিল।
একই সময়ে পোলো, ওডালিস ও নোলো নামে তিনটি ঘূর্ণিঝড় সক্রিয় ছিল। এক মাসের মধ্যে এমন ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটে। এর আগে সেপ্টেম্বরে লওয়েল, কারিনা ও মেরি নামে তিনটি ঘূর্ণিঝড় একই সময়ে সক্রিয় ছিল। ২০১৫ সালের পর এমন ঘটনা আর ঘটেনি।
আটলান্টিক মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা কম
প্রশান্ত মহাসাগরের বিপরীত চিত্র আটলান্টিকে। এল নিনোর কারণে উত্তর আটলান্টিকে বাতাসের গতির পার্থক্য বাড়ে। এতে ঝড় দুর্বল হয় এবং নতুন ঘূর্ণিঝড় তৈরির পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয়।
এ বছর আটলান্টিকে আটটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে হারিকেন হয়েছে মাত্র একটি। ইসাইয়াস নামের হারিকেনটি ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডল ও আলাবামায় আঘাত হানে। উপগ্রহের মাধ্যমে ঝড় পর্যবেক্ষণ শুরুর পর, ১৯৬০-এর দশক থেকে এত দেরিতে প্রথম হারিকেন তৈরির ঘটনা এবারই ঘটেছে। সাধারণত এ সময়ের মধ্যে আটলান্টিকে ১০টি নামযুক্ত ঝড়, পাঁচটি হারিকেন ও দুটি শক্তিশালী হারিকেন তৈরি হয়।
ভারতে কমেছে মৌসুমি বৃষ্টি
ভারতে এ বছর মৌসুমি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম হয়েছে। মধ্য ভারতে বৃষ্টি প্রায় স্বাভাবিক থাকলেও পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে তা ২৬ শতাংশ কমেছে। এসব অঞ্চলে ব্যতিক্রমী খরা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ ভারতেও বৃষ্টিপাত কমেছে ২৪ শতাংশ।
কিছু অঞ্চলে দীর্ঘ বিরতির পর হঠাৎ ভারী বৃষ্টি হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। তবে ভারতের মৌসুমি বায়ুর ওপর একাধিক আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাব থাকায় বৃষ্টির ঘাটতির একমাত্র কারণ এল নিনো নয় বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
পূর্ব চীন ও জাপানে শক্তিশালী টাইফুনের ঝুঁকি
পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে এ বছর ঝড়ের তৎপরতা বেশি। মাইসাক ও দুজুয়ানের মতো ঝড়ের কারণে পূর্ব চীন ও জাপানে বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে ১০টি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে। ১৯৬৬ সালের পর কোনো মৌসুমে এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা।
এল নিনোর সময় প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানি বাতাসের গতিপথে পরিবর্তন আনে। এতে ঘূর্ণিঝড় সাধারণত আরও পূর্বদিকে তৈরি হয়। ফলে ঝড়গুলো উষ্ণ সমুদ্রের ওপর দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে শক্তি সঞ্চয়ের বেশি সময় পায়। স্থলভাগে আঘাত হানার আগে এগুলো শক্তিশালী টাইফুনে পরিণত হতে পারে। এ বছর আরও টাইফুন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে জাপান ও পূর্ব চীনে নতুন করে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। সূত্র: বিবিসি
