নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটচুরির অভিযোগে তাঁরা অন্য বিরোধীদের মতোই সরব। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে তাঁরাও সমানভাবে মুখর। কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে একমঞ্চে আসতে কোনওভাবেই রাজি নয় ডিএমকে। তাঁরা ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভকে সমর্থন করলেও কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে চায়। খোদ এমকে স্ট্যালিন এই ঘোষণা করলেন।
সম্প্রতি দলীয় নেতাদের একটি বৈঠকে ডেকেছিলেন তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। সেখানে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন আরও জোরাল করতে হবে। ককরোচ জনতা পার্টিকে সমর্থন করবে দল। এসআইআর বাতিলের দাবিতে ডিএমকে আগেও সরব ছিল এখনও হবে। কিন্তু কোনও ইস্যুতেই কংগ্রেসের সঙ্গে একমঞ্চে যাওয়া যাবে না। বা কংগ্রেসের সঙ্গে ওঠাবসা করা যাবে না। সূত্রের দাবি, স্ট্যালিন দলীয় নেতাদের বলেছেন, কংগ্রেস ডিএমকে-কে পিছন থেকে ছুরি মেরেছে। তাই ওদের সঙ্গে কোনওরকম আলাপ-আলোচনা করা যাবে না। দরকার হলে ককরোচ জনতা পার্টিকে সামনে রেখে আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে তৃতীয় ফ্রন্টের কথাও ভাবতে পারে ডিএমকে।
কংগ্রেসের সঙ্গে ডিএমকের এই দূরত্ব সামগ্রিক ভাবে জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। শোনা যাচ্ছে, চলতি মাসের শেষেই বিশেষ অধিবেশনের ডাকবে কেন্দ্র। এই অধিবেশনে ফের ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং মহিলা সংরক্ষণ বিল পেশ করা হতে পারে। কেন্দ্র আত্মবিশ্বাসী যে লোকসভায় এবার এই দুই বিল পাস করানো সম্ভব হবে। যদিও বিরোধীদের বক্তব্য, অধিবেশন ডেকে চমক দিয়ে চাইছে বিজেপি। আদৌ প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায় করতে পারবে না তারা। এবারও দুটি বিল পাস করার চেষ্টায় জল ঢালবে বিরোধী দলগুলি। কিন্তু সরকার আত্মবিশ্বাসী। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকারের এই আত্মবিশ্বাসের রহস্যটা কী? তাহলে কি কংগ্রেসকে শত্রু ভাবা ডিএমকে গিয়ে শাসক শিবিরে ভিড়েছে? আসন পুনর্বিন্যাস করে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩টি থেকে বাড়িয়ে ৮১৬টিতে নিয়ে যাওয়ার এই বিল গত ১৭ এপ্রিল সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। কিন্তু সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, বিল পাস করাতে সংসদের উভয় কক্ষে যে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, তা এখন এনডিএ-র হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারের একটি সূত্র। ইতিমধ্যেই এমকে স্ট্যালিনের দলের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়েছে। লোকসভায় ডিএমকে-র সাংসদ সংখ্যা ২২। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে সরকার পক্ষ।
এনডিএ-র একটি সূত্রের দাবি, এখন লোকসভার ৫৪০ জন সাংসদ আছেন। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ৩৬০ জনের সমর্থন দরকার। তৃণমূল, উদ্ধবের শিব সেনায় ভাঙন ধরানোর পরে এনডিএ ৩১৯-এ পৌঁছে গিয়েছে। শরদের এনসিপি ও ডিএমকে সমর্থন করলে এনডিএ ৩৪৯-এ পৌঁছে যাবে। ফলে অল্প কয়েকটি ভোটের প্রয়োজন হবে। রাজ্যসভাতেও আম আদমি পার্টি ও তৃণমূলের ভাঙনের ফলে এনডিএ ১৫৫-য় পৌঁছে গিয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৬৩টি ভোট দরকার। পাওয়ার, স্ট্যালিনের সমর্থন পেলে এনডিএ আরও কাছাকাছি চলে যাবে। মনে করা হচ্ছে, বিশেষ অধিবেশনের এক সপ্তাহ আগে দিনক্ষণ জানাতে পারে কেন্দ্র।
