Authored By:
Published on
:
2 min read
এই সময়: আসন্ন কলকাতা পুরভোটে দলীয় নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি সমাজের বিশিষ্টজনদের প্রার্থী করতে চায় বঙ্গ বিজেপি। পদ্মফুল প্রতীকে সমাজের বিশিষ্ট কোনও ব্যক্তি যদি পুরভোটে লড়তে আগ্রহী হন, তা হলে তিনি বিজেপি রাজ্য দপ্তরে রাখা ড্রপ বক্সে আবেদনপত্র জমা দিতে পারেন।
মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য দপ্তরে রবিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারির উপস্থিতিতে এই ড্রপ বক্স আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু করা রয়েছে। দপ্তরের অফিস টাইমে যে কোনও ব্যক্তি এই ড্রপ বক্সে তাঁর আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। সুকান্তর কথায়, ‘বিজেপির কর্মী নন কিন্তু সমাজের প্রথিতযশা মানুষ— ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাডভোকেট, সমাজসেবী — এঁদের আমরা আহ্বান করছি দূরে দাঁড়িয়ে না থেকে, গ্যালারিতে না বসে, পিচে নেমে খেলুন। পিচ প্রস্তুত রয়েছে। আপনাদের বিজেপি সুযোগ দিচ্ছে। আপনাদের ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছে আমাদের জানান। আমরা চাই স্বচ্ছ কলকাতা পুরনিগম তৈরি করতে।’
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, দলীয় বৃত্তের বাইরে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তি অথবা নতুন প্রজন্মের কোনও মুখকে প্রার্থী করতে চাওয়ার অর্থ এই নয় যে, কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডে প্রার্থী হওয়ার উপযুক্ত লোক পদ্ম–শিবিরের নেই। সুকান্তর ব্যাখ্যা, ‘২০৯ ওয়ার্ডে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য কার্যকর্তা বিজেপির রয়েছে। কিন্তু সমাজের সবাইকে সুযোগ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এর ফলে নতুন হাওয়া আসবে। নতুন জিন আসবে। মিউটেশন হবে। টিকে থাকার জন্য নতুন জিন ঢোকা উচিত।’ ড্রপ বক্স চালু হওয়ার পরে এ দিনই ডজনখানেকের বেশি আবেদনপত্র জমা পড়েছে।
কলকাতা পুরভোটের ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট টিমের মাথায় সুকান্তকে রেখেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তাপস, রীতেশ প্রমুখ নেতারা তাঁকে সহায়তা করছেন। প্রশ্ন উঠেছে, যদি ড্রপ বক্সে কোনও ওয়ার্ড থেকে একইসঙ্গে বিজেপির কোনও সক্রিয় কর্মী এবং দলীয় বৃত্তের বাইরে থাকা কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তি আবেদন জনান, তা হলে কে অগ্রাধিকার পাবেন? সুকান্তর ব্যাখ্যা, ‘আমাদের প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে। এটা অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ নিয়ে একটি এসওপি–ও তৈরি হয়েছে। রাজ্য নেতৃত্ব এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে এই এসওপি চূড়ান্ত করা হবে। আবেদনকারীদের মধ্যে যিনি বেশি নম্বর পাবেন, তিনিই প্রার্থী হবেন।’ তাঁর ইঙ্গিত, বিজেপির নেতা–কর্মীদের মধ্যে নির্দিষ্ট ওয়ার্ড থেকে যাঁর জয়ের সম্ভবনা সবথেকে বেশি, যাঁর ভাবমূর্তি স্বচ্ছ, এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা রয়েছে, তাঁকেই প্রার্থী করা হবে। সুকান্তর লক্ষ্য, দলীয় নেতা–কর্মী, বিশিষ্টজন এবং যুব সমাজের প্রতিনিধিদের কাউন্সিলার করে কলকাতার পুনর্নির্মাণ করা।
ড্রপ বক্স চালু করলেও ইতিমধ্যেই টিকিট পাওয়ার আশায় কয়েক হাজার বায়োডেটা বিজেপি নেতৃত্বের কাছে জমা পড়েছে। সুকান্তর কাছেও অনেকে বায়োডেটা পাঠিয়েছেন। সুকান্তর ইঙ্গিত, কাউকে মেয়র–মুখ করা হবে না — ‘এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরে জয়ী জনপ্রতিনিধিরা মেয়র ঠিক করবেন।’
সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়–সহ এনসিপিআই–এর এক–দু’জন জন সাংসদ কলকাতা পুরভোটে বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করতে আগ্রহী। এনসিপিআই–এর তরফে এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। কোন কোন ওয়ার্ডে তাঁরা জোট চান, তার তালিকাও বিজেপির এক হেভিওয়েট নেতার কাছে এনসিপিআই–এর ওই নেতাদের তরফে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও সুকান্তর সাফ কথা, ‘২০৯টি ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থীরা থাকবেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলেছেন জানা নেই। আমাদের কাছে দলের রাজ্য সভাপতি অথবা মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নির্দেশ আসেনি।’ বিজেপির তরফে প্রতিটি ওয়ার্ডে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে মতবিনিময় করার জন্য ‘সংলাপ’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচিও চালু করা হবে।
