Published on
:
2 min read
যশোহর রোড থেকে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি বাজেয়াপ্ত করল পুলিশ। বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর এলাকার ঘটনা। গাড়ির মালিক রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন বম্ব স্কোয়াড, STF, NIA ও NSG-এর আধিকারিকরা। পুজোর মরশুমে বিপুল বিস্ফোরক কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাদা রঙের ওই গাড়িতে বিস্ফোরক পাচারের খবর বেঙ্গল STF-র কাছে আগে থেকেই ছিল। তাঁরাই তল্লাশিতে নেমে দত্তপুকুরের কাছে যশোহর রোডের ধার থেকে সাদা গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করেন। তবে সেই সময়ে গাড়িতে কেউ ছিল না। সেটা রাস্তার ধারে পার্ক করা ছিল। গাড়িতে তল্লাশি শুরু হতেই স্প্লিন্টার, রাসয়নিক, অ্যামোনিয়া-সহ একাধিক বিস্ফোরক উদ্ধার হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
সঙ্গে সঙ্গে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বম্ব স্কোয়াড। পৌঁছন STF, NIA ও NSG-র আধিকারিকরা। গাড়ির মালিকের সন্ধানে শুরু হয় তল্লাশি। বন্ধ করে দেওয়া হয় যশোহর রোড সংলগ্ন একাধিক রাস্তা। তদন্তে নেমে রাতেই দত্তপুকুর থেকে রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, বিপুল বিস্ফোরক নিয়ে কলকাতার দিকে যাওয়ার কথা ছিল গাড়িটির।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাকিবুল আগে মেকানিকের কাজ করতেন। প্রায় দশ বছর আগে মোটরবাইকের শোরুম খুলে ব্যবসা শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুত উত্থান হয় তাঁর। এখন দত্তপুকুরের তেঁতুলতলা, বিড়া এবং দেগঙ্গার বেড়াচাঁপা-সহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর চারটি শোরুম রয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের দাবি, কয়েক বছর আগে আমডাঙায় মোটরবাইকের শোরুমে বিস্ফোরণ ঘটেছিল। সেই শোরুমের মালিকও রাকিবুল ছিলেন বলেই তদন্তকারীদের দাবি।
যশোহর রোডের কাছেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত। রাকিবুলের বাংলাদেশে যাতায়াত ছিল বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। ধৃতকে বৃহস্পতিবারই বারাসতে আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাতে পারে তদন্তকারী সংস্থা। তবে এই বিপুল বিস্ফোরক কোথা থেকে এল, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, সেই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। এই নিয়ে বারাসতের পুলিশ সুপার এম মার্সি বলেন, ‘তদন্ত চলছে। গাড়িতে কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।’
