গ্রাম পুলিশকে চড় মারার অভিযোগ ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
আসাদুজ্জামান বাবুলপ্রকাশ:
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার শুকতাইল ইউনিয়নে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গ্রাম পুলিশ সদস্য নাজিমকে চড় মারার অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান রানা মোল্লার বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে প্রথমে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানের বিচার দাবি করলেও, পরে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেন ওই গ্রাম পুলিশ সদস্য।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে উল্লেখিত ঘটনাসংশ্লিষ্ট একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে আসে।
নাজিম বলেন, তিনি শুকতাইল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান রানা মোল্লা তার কাছে দেলোয়ার চৌকিদারের অবস্থান জানতে চান। জবাবে নাজিম জানান, দেলোয়ার চৌকিদার স্কুলের টিপ দিতে গেছে। এ কথা বলার পরই চেয়ারম্যান তাকে সবার সামনে চড় মারেন।
নাজিমের ভাষ্য, ঘটনার সময় তিনি গ্রাম পুলিশের পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এভাবে তাকে মারার অধিকার চেয়ারম্যানের নেই উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার বিচার দাবি করেন।
তবে বুধবার বেলা ২টা ৫৫ মিনিটের দিকে এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রানা মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অসুস্থতার কথা জানিয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি গ্রাম পুলিশ নাজিমের বক্তব্যের একটি ভিডিও পাঠিয়ে সেটি শোনার পর প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন। সম্ভব হলে পরদিন বৃহস্পতিবার প্রতিবেদন প্রকাশের কথাও জানান তিনি।
চেয়ারম্যানের পাঠানো ১ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ভিডিও বক্তব্যে নাজিম বলেন, ঘটনার দিন ইউনিয়ন পরিষদে একটি মিটিং ছিল। উল্লেখযোগ্য কোনো কারণ ছাড়াই চেয়ারম্যান তাকে একটি চড় মারেন। তবে চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই এবং এ ঘটনায় তিনি কোনো বিচার বা মামলা-মোকদ্দমা করতে চান না। বিষয়টি নিজেরা মীমাংসা করে নেবেন বলেও জানান তিনি।
কারও ভয় বা চাপে পড়ে তিনি একথা বলছেন কী না? জানতে চাইলে নাজিম বলেন, তিনি চেয়ারম্যানের অধীনে কাজ করেন, তবে কারও ভয় বা চাপে তিনি নিজের অবস্থান পরিবর্তন করেননি।
অন্যদিকে, গ্রাম্য পুলিশ নাজিমের প্রথম বক্তব্যে তিনি বিচার চাওয়ার কথা বললেও পরবর্তী ভিডিও বক্তব্যে তিনি বিচার বা মামলা করতে অনিচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তার বক্তব্যের এই পরিবর্তনের কারণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য কিংবা কোনো আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
