কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়লে জ্ঞান ফেরাতে মুখে পানি ছিটানো বা গালে চাপড় দেওয়ার প্রচলন আছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এসব পদ্ধতি নিরাপদ নয় বলে জানিয়েছেন জরুরি চিকিৎসাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অলোক গাঙ্গুর্দে।
কেউ হঠাৎ মাটিতে পড়ে গেলে এবং সাড়া না দিলে আশপাশের মানুষ ঘাবড়ে গিয়ে মুখে পানি ছিটিয়ে দেন, কেউ কেউ গালে চাপড়ও মারেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে চিকিৎসক অলোক গাঙ্গুর্দে জানান, অচেতন ব্যক্তির মুখে পানি ছিটালে অজ্ঞান হওয়ার প্রকৃত কারণের চিকিৎসা হয় না। বরং এতে জরুরি পরিস্থিতি শনাক্ত করতে দেরি হতে পারে।
মুখে পানি ছিটানো কেন বিপজ্জনক
রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া, রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া, হৃদ্স্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, খিঁচুনি কিংবা স্ট্রোকের মতো বিভিন্ন কারণে কেউ অচেতন হয়ে পড়তে পারেন। শুধু মুখে পানি ছিটিয়ে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
অলোক গাঙ্গুর্দের মতে, অচেতন অবস্থায় একজন মানুষের শ্বাসনালি সুরক্ষিত রাখার স্বাভাবিক ক্ষমতা কমে যেতে পারে। এ সময় মুখে বা নাকে পানি ঢুকলে শ্বাসরোধ হতে পারে কিংবা পানি ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও কারও কারও অনিয়মিত শ্বাস নেওয়া, হাঁপানোর মতো শব্দ বা নাক ডাকার মতো আওয়াজ হতে পারে। এগুলোকে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস ভেবে ভুল করলে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হতে পারে।
কেউ অজ্ঞান হলে কী করবেন
সাড়া পরীক্ষা: ব্যক্তিকে ডেকে এবং আলতোভাবে সাড়া পরীক্ষা করুন। একই সঙ্গে আশপাশ নিরাপদ কি না, তা খেয়াল করুন।
শ্বাসপ্রশ্বাস পরীক্ষা: সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ডের মধ্যে দেখুন, তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন কি না। শুধু হাঁপানো বা অনিয়মিত শব্দকে স্বাভাবিক শ্বাস ভাববেন না।
জরুরি সহায়তা: ব্যক্তি সাড়া না দিলে দ্রুত স্থানীয় জরুরি চিকিৎসাসেবায় যোগাযোগ করুন। তিনি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে জরুরি অপারেটরের নির্দেশনা মেনে সিপিআর শুরু করুন। কাছে অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর থাকলে সেটি ব্যবহার করুন।
কেউ অজ্ঞান হওয়ার আগেই মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভব করলে তাঁকে নিরাপদে শুইয়ে দিন। আঘাতের আশঙ্কা না থাকলে পা কিছুটা উঁচু করে রাখা যেতে পারে।
কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন
অচেতন ব্যক্তিকে ঝাঁকানো, গালে চাপড় দেওয়া, মুখে পানি ছিটানো কিংবা জোর করে খাবার, পানীয় বা ওষুধ খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন। ডায়াবেটিসের রোগীর রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তিনি পুরোপুরি সজাগ হয়ে নিরাপদে গিলতে না পারা পর্যন্ত মুখে চিনি বা মিষ্টি কিছু দেবেন না।
কখন দ্রুত চিকিৎসা জরুরি
ব্যায়ামের সময় বা শুয়ে থাকা অবস্থায় অজ্ঞান হলে, অজ্ঞান হওয়ার আগে বুক ধড়ফড় করলে, হৃদ্রোগের ইতিহাস থাকলে, গর্ভাবস্থায় অজ্ঞান হলে কিংবা বয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। অজ্ঞান হওয়ার কারণ সামান্যও হতে পারে, আবার গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণও হতে পারে।
অজ্ঞান ব্যক্তির জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করতে গিয়ে সময় নষ্ট না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মুখে পানি ছিটানোর বদলে সাড়া ও শ্বাসপ্রশ্বাস পরীক্ষা করুন, জরুরি সহায়তা নিন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।
বিআলো/শিলি